ভারতের খুচরা ঋণের বাজারে হাউজিং লোনের পরেই এখন সবথেকে জনপ্রিয় ‘গোল্ড লোন’ বা সোনা বন্ধকি ঋণ। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই বাজারে বড়সড় ঝুঁকির ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে। ট্রান্সইউনিয়ন সিবিআইএল-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যারা বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন (২.৫ লক্ষ টাকার বেশি) এবং যাদের একাধিক লোন চলছে, তাদের মধ্যে ঋণ খেলাপি হওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান একনজরে:
খেললাপির হার: ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ রয়েছে এমন গ্রাহকদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার হার ১.৫%, যা ছোট ঋণগ্রহীতাদের তুলনায় ২.২ গুণ বেশি।
একাধিক ঋণের বোঝা: যাদের ৫টির বেশি গোল্ড লোন চলছে, তাদের ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়ার হার সবথেকে বেশি— ১.৯%।
বাজারের আয়তন: বর্তমানে ভারতের গোল্ড লোন বাজারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬.২ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২২ সালের তুলনায় এই পোর্টফোলিও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
কেন বাড়ছে এই ঝুঁকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর সোনার দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় গ্রাহকরা বেশি টাকা লোন পেয়েছিলেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসের রেকর্ড দাম থেকে সোনার দাম প্রায় ১৫% কমে যাওয়ায় ঋণদাতারা সতর্ক হয়ে পড়েছেন। অনেক গ্রাহক সামর্থ্যের বাইরে ঋণ নিয়ে ফেলায় এখন তা শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিবেদন বলছে, বহু মানুষের কাছে সোনা বন্ধক রাখা এখন ‘শেষ অবলম্বন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাঙ্ক ও ঋণদাতাদের অবস্থান: সোনার দাম কমলেও ব্যাঙ্কগুলি দাবি করছে তারা সুরক্ষিত। এর কারণ হিসেবে তারা জানাচ্ছে:
এলটিভি (LTV) অনুপাত: আগে সোনার দামের ৭৫% পর্যন্ত লোন দেওয়া হতো, এখন অধিকাংশ ব্যাঙ্ক ৬০-৬৫% লোন দিচ্ছে। ফলে দাম কমলেও বন্ধকি সোনার মূল্য ঋণের চেয়ে বেশি থাকছে।
রিয়েল-টাইম মনিটরিং: ব্যাঙ্ক অফ বরোদার প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সবনবীশ জানিয়েছেন, সোনার দামের পতনের পর প্রতিটি লোন পোর্টফোলিও কড়া নজরে রাখা হচ্ছে।
গ্রাহকদের জন্য সতর্কবার্তা: ট্রান্সইউনিয়ন সিবিআইএল-এর এমডি ভবেশ জৈন জানিয়েছেন, শুধু সোনার গয়না থাকলেই লোন পাওয়া এখন আর সহজ হবে না। ঋণদাতার এখন গ্রাহকের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা এবং আগের ঋণের ব্যবহারের ইতিহাস (Credit History) আরও কড়াকড়িভাবে যাচাই করবে। যারা ইতিমধ্যেই অন্য লোনে খেলাপি হয়েছেন, তাদের জন্য গোল্ড লোন পাওয়া আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে।





