মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) নিয়ে এবার সরাসরি সম্মুখ সমরে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ইস্যুতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘নারীবিরোধী’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পাল্টা দিতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মোদীর অভিযোগকে ‘ভণ্ডামি ও কাপুরুষতা’ বলে অভিহিত করে পাল্টা পরিসংখ্যান দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি।
মোদীর আক্রমণ: “তৃণমূল নারীদের বাধা দিচ্ছে”
রবিবার এক জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূল সহ বিরোধী দলগুলি আসলে চায় না যে সংসদ বা বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ুক। তাঁর আক্রমণের মূল সুর ছিল:
বিরোধীরা মুখে নারী ক্ষমতায়নের কথা বললেও কাজে তার প্রতিফলন নেই।
তৃণমূল নারী সংরক্ষণ নিয়ে আন্তরিক নয় এবং মহিলাদের এগিয়ে আসার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
এই বিলকে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে ঘাসফুল শিবির।
মমতার গর্জন: “বিভ্রান্ত করবেন না প্রধানমন্ত্রী!”
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি তৃণমূলের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন:
৩৭.৯ শতাংশের ‘মাস্টারস্ট্রোক’: মমতা জানান, বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৩৭.৯ শতাংশই নারী। যা বিজেপির তুলনায় অনেক বেশি।
বাস্তব প্রতিনিধিত্ব: তৃণমূল নেত্রীর দাবি, সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে তাঁর দল বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে এবং এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবেও প্রমাণিত।
“অঙ্কের লড়াইয়ে” উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, কেন্দ্রীয় সরকার আসল সমস্যার সমাধান না করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস সবসময়ই নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পক্ষে থেকেছে এবং থাকবে।





