নারকেল ঝাঁটাতেই লক্ষ্মীলাভ! কোনো যন্ত্র নয়, শুধু দড়িতেই মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন মেদিনীপুরের ২০ পরিবার

পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের মকরামপুর পঞ্চায়েতের গুঁড়ি, অলঙ্কারপুর-সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের কাছে নারকেল ঝাঁটা তৈরিই এখন একমাত্র জীবিকা, যা তাদের স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছে। এই প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় কোনো রকম যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছাড়াই শুধুমাত্র প্লাস্টিকের দড়ি এবং নারকেল পাতার শলা (পিচ) ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে এই ঝাঁটা। এই কাজ করেই প্রতি মাসে তাদের রোজগার হচ্ছে কয়েক হাজার, ক্ষেত্রবিশেষে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এই ব্যবসা শুধুমাত্র একটি বা দুটি পরিবারকে নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক শ্রমজীবী পরিবারকেও মাসিক রোজগারের সুযোগ করে দিয়েছে। বংশপরম্পরায় কেউ ২০-২৫ বছর, আবার কেউ ৪০-৫০ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন। ভোর থেকেই পরিবারের সকলে মিলে এই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কাঁচামাল ও বাজারের পরিধি:

জানা যাচ্ছে, নারকেল ঝাঁটা তৈরির কাঁচামাল বা কাঠি আসছে মূলত পূর্ব মেদিনীপুরের মোহাড়, তমলুক ও কাঁথি থেকে। এই কাঁচামালগুলিকে সংগ্রহ করার পর এখানে শুধু বাছাই করে বাঁধাই করার কাজটিই করা হয়। প্লাস্টিকের ঝাঁটার তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে এই দেশি ঝাঁটার চাহিদা কেবল রাজ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও চলে যাচ্ছে। এই ঝাঁটা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ বিহার ও ছত্তিশগড় রাজ্যেও রফতানি হচ্ছে।

উপার্জন ও উৎপাদন পদ্ধতি:

পরিবারগুলি জানাচ্ছে, এই জীবিকার কারণেই তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছেন। একজন শ্রমিক প্রতিদিন গড়ে ৩০০টি ঝাঁটা তৈরি করতে পারেন। একটি ব্যবসায়ী পরিবার থেকে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ঝাঁটা বাঁধাই করা হচ্ছে। ঝাঁটাগুলিকে চারটি ভাগে ভাগ করে, ছোট থেকে বড় চার ধরনের মাপে তৈরি করা হয়। যার দাম সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সামান্য কাঁচামাল এবং কোনো যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই এমন অঢেল টাকা রোজগার প্রত্যন্ত এলাকার বহু পরিবারের আর্থিক রুটিরুজির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে, যা এই ঐতিহ্যবাহী জীবিকাকে বংশপরম্পরায় বাঁচিয়ে রেখেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy