‘নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র’ ছাড়া ভর্তি নয়! কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের বিজ্ঞপ্তিতে শোরগোল, চাপের মুখে প্রত্যাহার

বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) কর্মসূচি শুরু হওয়ায় যখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিভ্রাট চলছে, তখনই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র (Citizenship Proof) সংক্রান্ত এক নতুন বিতর্ক সামনে এল। কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের প্রাথমিক বিভাগের একটি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে এই শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঠিক কী নিয়ে বিতর্ক?
ভালো স্কুলের তালিকায় অন্যতম কৃষ্ণনগর হাইস্কুল (প্রাথমিক বিভাগ) সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময়ে শিশুর জন্মের শংসাপত্র-এর পাশাপাশি বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে নিম্নলিখিত চারটি নথির মধ্যে যেকোনো একটির ফোটোকপি দেখাতে হবে:

ভোটার কার্ড

প্যান কার্ড

আধার কার্ড

ড্রাইভিং লাইসেন্স

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যে শিশুর অভিভাবক এই চারটির মধ্যে একটি নথিও দেখাতে পারবেন না, সেই শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হবে না।

ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও রাজনৈতিক বিতর্ক:
বিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি দেখে ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে এখনও এনআরসি (NRC) চালু হয়নি। তার আগেই কী ভাবে একটি সরকার-পোষিত স্কুল পড়ুয়ার বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইতে পারে? এর ফলে অকারণে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ:
ভর্তি প্রক্রিয়ার এই বিতর্ক সামনে আসায় গোটা শিক্ষা মহল অস্বস্তিতে পড়ে। নদিয়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান দেবাশিস বিশ্বাস এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, “এমনটা কোনও ভাবেই করা যায় না। একজন পড়ুয়াকে ভর্তি করতে শুধু তার জন্মের শংসাপত্রের প্রয়োজন। সেই শংসাপত্রে তার বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানা লেখাই থাকে। তার পরেও কী ভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হল, বুঝতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চেয়ারম্যানের কড়া মন্তব্যের পর শিক্ষা মহলের চাপের মুখে পড়ে অবশেষে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেয় কৃষ্ণনগর হাইস্কুল প্রাথমিক বিভাগ।