নাগরাকাটায় বিজেপি নেতাদের উপর হামলা, গ্রেফতার একাধিক তৃণমূল সমর্থক, ‘ঝামেলা থামাতে গিয়েছিল’ বলে দাবি পরিবারের

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় বন্যা বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে বিজেপি নেতাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের সকলেরই বাড়ি জলপাইগুড়ির খয়েরবাড়িতে।
বিজেপির সাংসদ-বিধায়ককে মারধরের এই ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন একরামুল হক, যিনি স্থানীয় এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী।
ধৃতদের পরিবারের বক্তব্য:
ধৃত তৃণমূল সমর্থকদের পরিবারের দাবি, তাঁদের ছেলে বা স্বামী মারধর করতে যাননি, বরং ঝামেলা থামাতে গিয়েছিলেন।
একরামুল হকের বাবা আইনুল হক বলেন, “ছেলে পিছনে ছিল। বারণ করছিল যেতে। ও তো পঞ্চায়েতের সদস্যের স্বামী। ও তো বাধা দেবেই। উল্টে পাথরের আঘাতে ওর চোট লেগে গিয়েছে। পুলিশ ওকেই ধরে নিয়ে গেল।” একরামুলের বৌদি ফিরদৌসি বেগমও একই দাবি করে বলেন, “ও মারেনি। পাশে ছিল। অনেকে মেরেছে।”
ধৃত আরেক ব্যক্তি গোবিন্দ শর্মার পরিবারের দাবি, তাঁর মাথার ঠিক নেই। তাঁর দাদা হরি শর্মা বলেন, “পুলিশ ধরেছে। উঠিয়ে নিয়ে যাবে ভাবিনি। আমার ভাইয়ের দোষ কি? সেটাই আমরা জানি না।”
খয়েরবাড়ির আরেক ধৃত শাহনুর আলমের বাবা সইদুল হক বলেন, “ছেলে তৃণমূল করে। মারধর করেনি। দেখতে গিয়েছিল। আত্মীয়কে পৌঁছতে গিয়েছিল।”
ধৃত তোফায়েল হোসেনের আত্মীয় সালমা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। “লোকেকে বাঁচাতে গিয়েছিল। ওদিকেই সবজির ব্যাবসা করে। বাইরে থেকে লোক এসেছে। একে ফাঁসানো হয়েছে।”
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যামেরায় পাওয়া ফুটেজ এবং প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।