‘গালা ভরার’ নাম করে ব্রোঞ্জের বালা বন্ধক রেখেছিল! সরল মনের দোকানদারকে ধোঁকা দিয়ে হার চুরি শান্তিপুরে

নদীয়ার শান্তিপুরে এক সোনার দোকানে ঘটেছে অভিনব প্রতারণার ঘটনা। এক জালিয়াত ব্রোঞ্জের বালাকে সোনার বলে দোকানে রেখে, দোকানদারকে ধোঁকা দিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সোনার হার নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর থানার ভদ্রকালিতলা বাইগাছি পাড়ার একটি সোনার দোকানে।
সোনার দোকানের মালিক কৃষ্ণ গোপাল কর্মকার জানান, গতকাল আনুমানিক সকাল ১১টা নাগাদ এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর দোকানে আসেন। লোকটি প্রথমে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে কানের দুল দেখতে চান। এরপর বিভিন্ন সোনার অলংকার দেখতে দেখতে তিনি দুটি গলার হার পছন্দ করেন।
প্রতারণার অভিনব কৌশল:
এরপরই শুরু হয় প্রতারকের আসল কৌশল। ওই ব্যক্তি কৌশলে কথোপকথনের মাঝে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন যে, সামনেই বাজারে তাঁর একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে। এরপর তিনি নিজের সঙ্গে থাকা একটি ভারী বালা দোকানদারকে দেখিয়ে জানান, এটি সোনার তৈরি এবং তিনি সেটি গালা ভরিয়ে নিতে চান।
তিনি দোকানদারকে বলেন, “এই বালাটা আপনি আপাতত রেখে দিন, আমি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পছন্দমতো দুটি হার দেখিয়ে একটি রাখব, অন্যটি ফেরত দিয়ে দেব।”
সরল মনের দোকানদার কৃষ্ণ গোপাল বাবু ভাবেন, যেহেতু ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে একটি সোনার বালা বন্ধক রাখছেন, তাই কিছুক্ষণের জন্য দুটি হার দেওয়াতে অসুবিধা নেই। তিনি অন্য এক মহিলা গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত থাকায় কষ্টিপাথর বা অন্য কোনো রাসায়নিক উপাদান দিয়ে বালাটি পরীক্ষা করেননি। এই সুযোগে প্রতারক দুটি হার নিয়ে চলে যায়। আসলে সেই বালাটি ছিল সোনার মতো দেখতে ব্রোঞ্জের।
তদন্তে পুলিশ:
অনেকটা সময় কেটে গেলেও ওই ব্যক্তি দোকানে না ফেরায় কৃষ্ণ গোপাল বাবুর সন্দেহ হয়। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, যেই মুদিখানার দোকানের কথা সে বলেছিল, তার অস্তিত্বই নেই। এরপরই বোঝা যায় পুরো ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ। পরবর্তীতে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রতারক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে কৃষ্ণবাবু শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শান্তিপুর থানার পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।