নরবলি কাণ্ডে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তি! প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দিল কলকাতা হাইকোর্ট

হুগলির খানাকুলে ২০১৮ সালের আলোচিত নরবলি-কাণ্ডে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত এক নারী এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক নারীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এই রায়ের পর প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আসল অপরাধী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে?

কী ছিল অভিযোগ?

২০১৮ সালে হুগলির খানাকুলে এক নাবালিকাকে তন্ত্রসাধনার জন্য তার দিদিমা এক তান্ত্রিকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে শিশুটির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত ছিল তান্ত্রিক মুরারি পণ্ডিত এবং তাকে সাহায্য করার জন্য অভিযুক্ত ছিলেন তার স্ত্রী সাগরিকা পণ্ডিত ও শিশুটির দিদিমা।

আদালতের রায়:

এই মামলার বিচার চলাকালীন মূল অভিযুক্ত তান্ত্রিক মুরারি পণ্ডিতের মৃত্যু হয়। আরামবাগ আদালত তার স্ত্রী সাগরিকা পণ্ডিতকে ফাঁসির সাজা এবং শিশুটির দিদিমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার পুনর্বিচার হয়। সাগরিকার আইনজীবী নীলাদ্রিশেখর ঘোষ যুক্তি দেন যে, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যায় না কারণ তিনি একজন নারী। এছাড়া বলির আগে ধর্ষণের বিষয়টিও সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ি থেকে যে জুতো উদ্ধার করেছিল, সেটি যে মৃত শিশুটিরই ছিল তার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ ছিল না। এছাড়াও, তদন্তে আরও অনেক গাফিলতি ছিল বলে তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

সব দিক বিবেচনা করে হাইকোর্ট রায় দেয় যে, প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের সাজা দেওয়া যায় না। তাই তারা বেকসুর খালাস পেলেন।

এই রায়ের পর আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত শিশুটির বাবা চাইলে এই ঘটনার পুনরায় তদন্তের জন্য আবেদন করতে পারেন। আইনে সেই সুযোগ এখনো আছে।