নয়া মোড়! মোদীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেও, ভারতের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ চেষ্টা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর প্রশাসন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূর করার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘খুব ভালো বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে একটি সফল সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

বন্ধুত্বের বার্তার আড়ালে অন্য চাল

মোদীকে বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও, ডাম্প ট্রাম্প এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) ভারতের বিরুদ্ধে একত্রিত করতে চাইছেন। ইতিমধ্যেই আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এবার সংবাদ সংস্থা AFP-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন যাতে তারাও ভারত এবং চিনের উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।

কেন এই পদক্ষেপ?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন আধিকারিক AFP-কে জানিয়েছেন, ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক বাড়ানোর কথা ভাবছেন, তবে এটি তখনই কার্যকর হবে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই পদক্ষেপ নেবে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন ও ইইউ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় ট্রাম্প ভারত ও চিনের মতো রাশিয়ান তেল ক্রেতাদের ওপর ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘রাশিয়ান যুদ্ধ মেশিনের উৎস হলো চিন ও ভারতের তেল ক্রয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এই বিষয়ে ইইউকে তার পাশে চান এবং এই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন।

এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে মোদীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করা হচ্ছে, আর অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জোটবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।