নম্বর না দিলেই বিপদ! হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে কড়া হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের, বড় চাপে মেটা!

জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপের আগামী দিনের ফিচার ‘ইউজারনেম’ নিয়ে বড়সড় আইনি জটে পড়তে চলেছে মেটা। মোবাইল নম্বর শেয়ার না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন—এই অভিনব সুবিধাটি আনার পরিকল্পনা থাকলেও, সরকারের কড়া নজরে পড়ে আপাতত তা ধাক্কা খেল। আইটি মন্ত্রকের তরফ থেকে এই ফিচারটির সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
কেন্দ্রের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, মোবাইল নম্বর গোপন রাখার সুবিধাটি সাইবার অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠতে পারে। সরকারের দাবি, এই ফিচারটির মাধ্যমে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং, ক্রমবর্ধমান ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ স্ক্যাম এবং পরিচয় জালিয়াতির (impersonation) মতো অপরাধ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার পূর্বালোচনা ছাড়াই মেটা এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ফিচার চালু করার পরিকল্পনা নিল, তা নিয়ে আইটি মন্ত্রক নোটিশ জারি করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, আইটি আইন এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন মেটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পিটিআই সূত্রে খবর, গত বুধবার কেন্দ্র সরকার মেটাকে নির্দেশ দিয়েছিল, যতক্ষণ না এই ফিচারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে এবং সরকার তাতে সন্তুষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ এই ফিচার কোনোভাবেই ভারতে চালু করা যাবে না। এরপরই নড়েচড়ে বসে মেটা। গত শুক্রবার মেটার একটি প্রতিনিধি দল আইটি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে মেটা কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, সরকারি স্তরে সব আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে আপাতত এই ফিচারটি স্থগিত রাখা হবে।
প্রাথমিকভাবে মেটাকে গত শুক্রবারের মধ্যেই তাদের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে জবাব প্রস্তুত করতে কিছুটা বাড়তি সময় চেয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইটি মন্ত্রক তাদের আরও তিন দিন সময় দিয়েছে। এখন সব নজর সেদিকেই—সরকারের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মেটা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্তভাবে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং তাদের সিস্টেমে কোন ধরণের সুরক্ষা কবচ যুক্ত করে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নম্বর গোপন করার সুবিধা আধুনিক যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, তার অপব্যবহার রুখতে কঠোর প্রোটোকল প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের বেঁধে দেওয়া এই তিন দিনের শেষে মেটা কী উত্তর নিয়ে হাজির হয়। এই ঘটনার পর স্পষ্ট, ভারতের কঠোর সাইবার নিরাপত্তা আইনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে যেকোনো বড় টেক জায়ান্টের জন্য ফিচার চালুর রাস্তা কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মেটা ও সরকারের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।