নমাজ পড়তেন শ্রীকৃষ্ণ! মৌলানার আজব দাবিতে ফুঁসছে হিন্দু সংগঠন, গ্রেপ্তারের দাবি

ঝাড়খণ্ডের একটি ধর্মীয় সভায় মৌলানা জারজিস আনসারির করা এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে হিন্দু সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ জুন আয়োজিত ওই সভায় মৌলানা দাবি করেন, “শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি দিনে পাঁচবার নমাজ পড়তেন।” তাঁর এই দাবি প্রমাণের জন্য তিনি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোকটি উদ্ধৃত করেন। তিনি দাবি করেন, এই শ্লোকটি আসলে ইসলাম এবং দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথাই বলে। মৌলানার মতে, যদি হিন্দুরা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলি মন দিয়ে পড়েন, তবে তারা ইসলামকেই ভালোবাসতে শুরু করবেন, কারণ এটি নাকি এক সর্বজনীন ধর্ম।

তবে মৌলানার এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ভগবদ্গীতার ওই শ্লোকের প্রকৃত অর্থ হলো—একজন যোগী নির্জন স্থানে থেকে একাগ্রচিত্তে ধ্যান করবেন, যেখানে কামনা-বাসনা ও আসক্তির কোনো স্থান নেই। সেখানে ইসলাম বা নমাজের কোনো উল্লেখই নেই। এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন পথে নেমেছে এবং অবিলম্বে মৌলানা জারজিস আনসারির গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

মৌলানা আনসারি অবশ্য বিতর্কের কেন্দ্রে এই প্রথম নন। ২০২২ সালেও তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে তিনি মুসলিম মহিলাদের প্রসববেদনার সময়েও স্বামীর যৌন চাহিদা মেটানোর অমানবিক নিদান দিয়েছিলেন। তবে তাঁর অতীতের অন্ধকার দিকটি আরও ভয়াবহ। ২০১৬ সালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বারাণসীর একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত তাঁকে এই ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

অভিযোগকারিণীর বয়ান অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূত্রে আনসারির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে হোটেলে ডেকে নিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল করেন এই তথাকথিত ধর্মপ্রচারক। এমন একজন অপরাধীর মুখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও সনাতন ধর্ম নিয়ে এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ধর্মপ্রাণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনত অভিযুক্ত ও অতীতে জেল খাটা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি না।