বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়ল খাস নবান্নে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং বিজেপির বিপুল জয়ের পর, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই রাজ্য প্রশাসনে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন শুদ্ধিকরণ। নবান্ন সূত্রে খবর, যে সমস্ত আমলা অবসর নেওয়ার পর চুক্তির ভিত্তিতে বা বিশেষ পদে আসীন ছিলেন, বুধবার থেকে তাঁদের অফিসে আসতে স্পষ্ট নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের মৌখিকভাবে এই নির্দেশ দিয়েছেন। লোক ভবন থেকে আসা এই বার্তায় সাফ জানানো হয়েছে, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কোনও পুনর্নিযুক্ত (Re-employed) আধিকারিক দপ্তরে পা রাখতে পারবেন না। এর ফলে বিগত ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের অন্দরে ছড়ি ঘোরানো একঝাঁক ‘প্রভাবশালী’ আমলার দাপট এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল।
তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা মণ্ডলীতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ইতিপূর্বেই ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের পথ অনুসরণ করে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিব মনোজ পন্থও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকাকালীন এই আমলাদের অবসরের পরেও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন, যা নিয়ে বিরোধী শিবির বারবার সরব হয়েছে। বিজেপির জয়ের পর এই আমলাদের ‘গণ-ইস্তফা’ আসলে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধ্যায়ের যবনিকা পতন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আমলাদের পাশাপাশি ইস্তফা দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারও। তিনি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC) এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল, বিশেষ করে চতুর্থ অর্থ কমিশনের প্রধান হিসেবে তাঁর দেওয়া রিপোর্টের জেরে মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে। নবান্নের অলিন্দে কান পাতলে এখন শোনা যাচ্ছে কেবল পরিবর্তনের পদধ্বনি। একদিকে যেমন রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে নবান্নের অন্দরে ব্রাত্য করা হচ্ছে বিদায়ী জমানার বিশ্বস্ত সেনাপতিদের। প্রশাসনিক এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলার শাসন ব্যবস্থায় এবার নতুন দিনের সূচনা হতে চলেছে।





