নবমী-দশমীতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, উৎসবের মুখে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা, উচ্চ সতর্কতায় রাজ্য প্রশাসন

শারদোৎসবের মাঝেই ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবছর দুর্গাপূজার সময়েই বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে নবমী, দশমী ও একাদশীর দিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতিমধ্যেই আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নবমীর দিন নতুন নিম্নচাপ ঘনীভূত হতে পারে। এর জেরে সমুদ্রও উত্তাল থাকবে। ফলস্বরূপ, ১ অক্টোবর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস।

পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
গত সপ্তাহেই অতিভারী নিম্নচাপের জেরে কলকাতা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়েছিল। জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার পুজোর আগে থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি কন্ট্রোল রুম
দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন সর্বক্ষণ সতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন এবং শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্গাপূজার শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। সেখানে একজন সিনিয়র আইএএস আধিকারিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে থাকছেন দুইজন করে ডব্লুবিসিএস অফিসার। এর ফলে যেকোনো জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে নবান্ন।

টানা কন্ট্রোল রুম চালুর পরিকল্পনা
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রথম দফায় এই কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। শুধু দুর্গাপূজা নয়, কালীপুজোর সময় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর এবং ছটপুজোয় ২৭ ও ২৮ অক্টোবরও কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রাখা হবে।

রাজ্য প্রশাসনের মূল লক্ষ্য একটাই— উৎসবের দিনগুলোতে কোনও দুর্যোগ যাতে সাধারণ মানুষের আনন্দ নষ্ট না করতে পারে। আবহাওয়ার চোখরাঙানি থাকলেও, রাজ্য সরকার আশ্বাস দিয়েছে, উৎসবের আনন্দ ধরে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ হওয়ায় আমজনতাও অনেকটাই নিশ্চিন্ত। তবে আবহাওয়ার অস্থিরতা যে পুজোর আমেজে খানিকটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে, সে আশঙ্কা রয়েই গেল।