নববর্ষের ভোরে মন্দিরে ভক্তের ঢল, রাজভবন থেকে প্রচারের ময়দান—পয়লা বৈশাখে জমজমাট বাংলা!

তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই ১৪৩১-কে বরণ করে নিতে মেতে উঠেছে তিলোত্তমা থেকে জেলা। আজ পয়লা বৈশাখ, বাঙালির নববর্ষ। আর এই বিশেষ দিনে ভক্তি ও রাজনীতির এক অদ্ভুত মিশেল দেখল বাংলা। সকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি প্রধান মন্দিরে উপচে পড়া ভিড়। দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ থেকে কালীঘাট— সর্বত্রই পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন।

এদিন সাতসকালেই সস্ত্রীক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। নতুন বছরের শুরুতে রাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন তিনি। মন্দির চত্বরে সাধারণ ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে, বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরেও সকাল থেকে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছে। কেবল বাংলা নয়, ভিনরাজ্য থেকেও ভক্তরা এসেছেন মা তারার আশীর্বাদ নিতে। ভিড় সামলাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বরে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

দোকানে দোকানে শুরু হয়েছে ‘হালখাতা’-র রীতি। মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার হাতে বাঙালির চিরাচরিত মেজাজ আজ প্রতিটি পাড়ায়। তবে উৎসবের আবহের মধ্যেই বিরাম নেই ভোটপ্রচারে। সামনেই নির্বাচন, তাই নববর্ষের সকালেই ময়দানে নেমে পড়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা।

ভবানীপুর কেন্দ্রে আজ সকালে জনসংযোগ সারেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। পিছিয়ে নেই শাসকদলও; টালিগঞ্জে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে জোরদার প্রচার চালান তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছেন মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর কলেজ মোড় থেকে ইন্দা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত আয়োজিত ‘পরিবর্তন যাত্রা’য় যোগ দিয়ে কীর্তনের তালে পা মেলাতে দেখা যায় তাঁকে। সব মিলিয়ে পুজো, পার্বণ আর রাজনীতির দ্বৈরথে এক রঙিন নববর্ষের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy