ট্রফি না নিয়েই চ্যাম্পিয়ন ভারত! দুবাইয়ে মহসিন নকভিকে দেখে দর্শকদের তীব্র স্লোগান ‘ট্রফি চোর’

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে মহিলাদের এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক সাফল্য ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। টুর্নামেন্ট ফাইনালে পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান হরমনপ্রীত কৌররা। এই ঘটনার জেরে দুবাই স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারও ভারতীয় সমর্থক ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সমস্বরে গাইতে শুরু করেন ‘ট্রফি চোর, নকভি ট্রফি চোর’ স্লোগান। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই স্লোগানের তীব্রতা দেখে হাসতে দেখা যায় খোদ ভারতীয় ক্রিকেটারদেরও। মূলত ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপোড়েন এবং বিগত এক বছরের ট্রফি বিতর্কের জেরে এই চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত পুরুষদের এশিয়া কাপ থেকে। সেবারও ফাইনালে পাকিস্তানকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। কিন্তু তৎকালীন পরিস্থিতিতে মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল ভারতীয় দল। অভিযোগ ওঠে, নকভি জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে না দিয়ে তা দুবাইয়ে এসিসি দফতরে আটকে রেখেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেও ট্রফি হাতে না পাওয়ার সেই ক্ষোভ আজও ভুলতে পারেননি ভারতীয় সমর্থকরা। আর সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটেছে মহিলা এশিয়া কাপের ফাইনালে, যেখানে নকভিকে সরাসরি ‘ট্রফি চোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে ভেসে আসা এই স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।

এদিকে, এই গোটা বিতর্কের পর ভারতীয় দলের সিদ্ধান্তের সাফাই দিয়েছেন বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা। দিল্লি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় দলের একটি সম্মিলিত ও পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। রাজীব শুক্লা আরও জানান, ভারতীয় দলের এই কঠোর অবস্থানের মুখে বিন্দুমাত্র আপত্তি জানাননি মহসিন নকভি। তিনি অত্যন্ত শান্তভাবে পরিস্থিতি মেনে নেন এবং অন্য আধিকারিকদের মাধ্যমে ট্রফি হস্তান্তরের পর্ব শেষ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। তবে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ভারতীয় দলের এমন অনমনীয় মনোভাব এবং দর্শকদের এই চরম প্রতিক্রিয়া বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শীতলতাকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। ক্রিকেট মহলে এখন একটাই আলোচনা, মাঠের খেলার বাইরে এই ট্রফি বিতর্ক কতদূর গড়ায়।