নম্বর না দিলেই কি সুরক্ষিত? হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচারে লুকিয়ে কোন বড় বিপদ?

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে এল মেটা। এখন থেকে আর অপরিচিত কাউকে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই কি লুকিয়ে আছে সাইবার অপরাধের নতুন জাল? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু চিন্তায় পড়েছেন।

কী এই নতুন ফিচার? এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল মোবাইল নম্বর। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে এখন ইনস্টাগ্রাম বা টুইটারের মতো আপনি একটি নিজস্ব ‘ইউজারনেম’ তৈরি করতে পারবেন। এতে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখা সহজ হবে। কারো সাথে চ্যাট শুরু করতে চাইলে তাকে কেবল আপনার ইউজারনেম দিলেই হবে, ফোন নম্বর শেয়ার করার দরকার নেই। নিরাপত্তার খাতিরে এতে থাকবে একটি ‘ইউজারনেম কী’ বা পিন ব্যবহারের সুবিধাও।

কেন এটি সাইবার বিশেষজ্ঞদের মাথাব্যথার কারণ? হোয়াটসঅ্যাপ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের কোনো ‘পাবলিক সার্চ ডিরেক্টরি’ নেই। অর্থাৎ, কেউ চাইলেই আপনার ইউজারনেম দিয়ে আপনাকে খুঁজে পাবে না, যতক্ষণ না আপনি নিজে থেকে তাকে ইউজারনেমটি দিচ্ছেন। টেলিগ্রামের মতো অ্যাপে এই ফিচার আগে থেকেই থাকলেও, হোয়াটসঅ্যাপের বিশাল ব্যবহারকারী মহলের ক্ষেত্রে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফিচারের কারণে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি বাড়তে পারে:

  • ভুয়া পরিচয়: অপরাধীরা খুব সহজে ফেক ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

  • স্ক্যামের সহজ রাস্তা: ইউজারনেম ব্যবহার করে অপরিচিত ব্যক্তিরা যোগাযোগ করলে তা চিহ্নিত করা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

  • ফিশিং অ্যাটাক: ভুয়া ইউজারনেম ব্যবহার করে প্রতারকরা প্রলোভন দেখিয়ে ম্যালওয়্যার বা ফিশিং লিঙ্ক পাঠাতে পারে, যা বর্তমানে অনেক বেশি উদ্বেগের কারণ।

সতর্কতা ও করণীয়: যদিও হোয়াটসঅ্যাপে একাউন্ট তৈরির জন্য প্রাথমিক যাচাইকরণে মোবাইল নম্বর লাগবেই, তবে চ্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন স্বাধীনতা আপনাকে সতর্কও করে দিচ্ছে। অপরিচিত কারও কাছ থেকে ইউজারনেমের মাধ্যমে মেসেজ এলে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

গোপনীয়তার এই নতুন অধ্যায়টি আপনার চ্যাটিং অভিজ্ঞতাকে যতটা সহজ করবে, ততটাই সচেতনতা দাবি করবে। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময় মাথায় রাখা জরুরি।