নতুন শত্রু এবার মহাকাশে! চিনের মোকাবিলায় ‘বডিগার্ড স্যাটেলাইট’ তৈরি করছে ভারত, বরাদ্দ ২৭ হাজার কোটি টাকা

পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা সামলানোর পর এবার ভারত তার নজর ঘোরানো নতুন এক শত্রুর দিকে, যার অবস্থান পৃথিবীতে নয়—বরং মহাকাশে। ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় ভারত সরকার এই নতুন বিপদ সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। জানা গেছে, এক প্রতিবেশী দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ ভারতের একটি স্যাটেলাইটের এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে চলে এসেছিল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকার মহাকাশ সুরক্ষার জন্য বড় উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চিনকে টক্কর দিতে ‘বডিগার্ড স্যাটেলাইট’
মহাকাশে চিনের হাতে যেখানে প্রায় ৯৩০টিরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে, সেখানে ভারতের সংখ্যা মাত্র ১২০-এর কাছাকাছি। মহাকাশে এই বিপুল ব্যবধানই ভারত সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এই নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি করা হবে ‘বডিগার্ড স্যাটেলাইট’। এই বিশেষ স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে ভারতীয় উপগ্রহগুলিকে নিরাপত্তা দেবে এবং শত্রুপক্ষের অস্বাভাবিক গতিবিধি চিহ্নিত করবে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা বা আনুমানিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। এই বরাদ্দ অর্থে ৫০টি নতুন নজরদারি স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি ও সামরিক কৌশল
এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক LiDAR (Light Detection and Ranging) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে মহাকাশে অস্বাভাবিক গতিবিধি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে। শনাক্ত হওয়ার পর পৃথিবী থেকে সরাসরি নির্দেশ পাঠিয়ে শত্রুর গতিবিধি কেবল নজরদারিই নয়, প্রয়োজন হলে তা প্রতিহত করার ক্ষমতাও থাকবে ভারতের হাতে।
ইসরোর প্রাক্তন ডিরেক্টর (ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রোগ্রাম) সুধীর কুমার এন জানিয়েছেন, “সারাদিন এই ধরনের বিষয় ট্র্যাক করার ক্ষমতা এখনই আমাদের নেই। তবে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু স্টার্টআপ এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।”
এই সামরিক প্রয়োজন মেটাতে মহাকাশ সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়ও চিন স্যাটেলাইট কভারেজে সাহায্য করেছে। তাই দেশের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা রক্ষায় মহাকাশ সুরক্ষার এই উদ্যোগকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত এবার তার নিরাপত্তা বলয় সীমান্ত থেকে শুরু করে আকাশ ও মহাকাশেও ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।