১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করবেন কোথায়? এফডি নাকি মিউচুয়াল ফান্ড—১০ বছরে কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর আসল হিসাবটি জানেন কি?

টাকা জমানো যতটা কঠিন, সঠিক জায়গায় তা বিনিয়োগ করা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। আপনার কাছে যদি এককালীন ১০ লক্ষ টাকা থাকে, তবে প্রথম যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হলো—এটি কোথায় বিনিয়োগ করবেন? কোন পথটি বেছে নেবেন: ফিক্সড ডিপোজিট (FD) নাকি ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড?

শুধুমাত্র প্রত্যাশিত রিটার্নের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিলে অনেক সময় লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। যখন কর, বাজার ঝুঁকি এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবকে হিসাবে ধরা হয়, তখন আসল চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসুন, ১০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পূর্ণ হিসাবটি বুঝে নেওয়া যাক।

ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগের সুরক্ষা

ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি দেশের সবচেয়ে প্রচলিত এবং প্রচলিত বিনিয়োগ পদ্ধতি। যারা বাজারের ওঠানামা ও ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে চান, তাদের কাছে এটিই প্রথম পছন্দ। ধরা যাক, আপনার এফডি-তে বছরে গড়ে ৭.৫% হারে সুদ মিলছে। ১০ বছর ধরে এই টাকা না তুললে সুদে-আসলে আপনার ১০ লক্ষ টাকা বেড়ে প্রায় ২০.৬ লক্ষ টাকা হবে। অর্থাৎ, আপনি নিশ্চিতভাবেই প্রায় ১০.৬ লক্ষ টাকা সরাসরি আয় করতে পারবেন। ব্যাংকের সুদের হারের ওপর ভিত্তি করে এই অঙ্কে সামান্য হেরফের হতে পারে, তবে এখানে টাকার শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে লাভের খেলা

অন্যদিকে, একই ১০ লক্ষ টাকা যদি কোনো ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে এককালীন (Lump Sum) বিনিয়োগ করা হয়, তবে সম্পূর্ণ হিসাব বদলে যায়। যদিও এখানে রিটার্ন নিশ্চিত নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে ইক্যুইটি সাধারণত দুর্দান্ত ফল দেয়। যদি ১০ বছর ধরে গড়ে বার্ষিক ১২% রিটার্ন অর্জন করা যায়, তবে আপনার ওই ১০ লক্ষ টাকা বেড়ে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে। এর অর্থ হলো, আপনি প্রায় ২১ লক্ষ টাকার বিশাল লাভ করতে পারেন, যা ফিক্সড ডিপোজিটের দ্বিগুণ। তবে এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে বাজারের ঝুঁকি।

বিনিয়োগের শুরুতেই বাজার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়লে সাময়িক লোকসানের ভয় থাকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। তাই সঠিক পরিকল্পনা এবং মুদ্রাস্ফীতি ও করের হিসাব মাথায় রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।