মুখ্যমন্ত্রীদের আইনি রক্ষাকবচ খতম! বিজিবিএস দুর্নীতির ফাইল সরাসরি কমিশনের হাতে তুলে দেওয়ার হুংকার দিলেন শুভেন্দু

রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় আসতে চলেছে বড়সড় রদবদল। দুর্নীতির তদন্তে এবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীদের বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ পুরোপুরি বাতিল হতে চলেছে। বিগত সরকারের আমলের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজিবিএস (Bengal Global Business Summit) সংক্রান্ত ফাইল এবার সেই কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।

মুখ্যমন্ত্রীদের বিশেষ রক্ষাকবচ প্রত্যাহার

অতীতে বিধানসভায় বিল পাশ করে আইনে একটি বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো দুর্নীতির ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী নিজে জড়িত থাকলেও তাঁকে তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আইনের আওতার বাইরে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই আইনি রক্ষাকবচ চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রীও যেকোনো দুর্নীতি মামলার তদন্তের আওতায় আসবেন। এর ফলে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদেরও আর ছাড় পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ থাকছে না।

৩৩০ কোটি টাকার বিজিবিএস দুর্নীতি নিয়ে তোপ

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মূলত বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট বা বিজিবিএস আয়োজনে বিপুল আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, ওই শিল্প সম্মেলন আয়োজনের নাম করে ফিকি (FICCI)-কে ৩৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। এই মর্মে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই দুর্নীতির মামলা সরাসরি কমিশনের কাছে পাঠিয়ে বিশদ তদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে দুর্নীতি সংক্রান্ত কমিশন কাজ শুরু করে দিয়েছে। সেখানেই সমস্ত প্রমাণ ও ফাইল পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘রাজ্যের দয়াতেই জেলের বাইরে মমতা-অভিষেক’

এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো এখনও জেলের বাইরে মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের সহনশীলতা ও দারার ফলেই যে তাঁরা বাইরে রয়েছেন, তা স্পষ্ট ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তিনি।