“কোথায় লিকেজ হচ্ছে জানি, সুযোগ মিলবে না”-চিনির দাম নিয়ে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

গত কয়েক দিন ধরে বাজারে চিনির লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ যখন চরমে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই চিনির বাজার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সম্প্রতি বাজারে চিনির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট ফাঁকা হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চিনির বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা চলছে। পূর্বে যে চিনি প্রতি কেজি ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা হঠাৎ করে বেড়ে প্রথমে ৫৮ এবং গত দুই-তিন দিনে ৬৮ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক নজরদারিতে আসার পরেই মুখ্যসচিবের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় মজুতদাররা অনৈতিকভাবে চিনি জমিয়ে রেখে কৃত্রিম দাম বাড়াচ্ছেন, সেই ‘লিকেজ’ বা ফাঁকফোকড়গুলি চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। রাইস মিল এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিনির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক চলছে। আখের রস ইথানল তৈরিতে ব্যবহার করার ফলে চিনি উৎপাদনের কাঁচামাল কমে যাওয়ার তত্ত্বকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা সরব হলেও, কেন্দ্র দাবি করেছে যে আবহাওয়াজনিত কারণ ও ফসলের রোগের ফলেই এই সাময়িক প্রভাব পড়েছে। তবে রাজ্য স্তরে বাজারে কৃত্রিমভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটানোর কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি শক্তিশালী প্রশাসন সব সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর, এই বার্তা দিয়ে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই চিনির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসবে।