“নকল চিকিৎসকদের ধরতে কড়া দাওয়াই!”-SIR-এর আদলে চিকিৎসকের নথি যাচাই, চালু হচ্ছে ‘KYD’

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে এবার নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতর। অতীতে রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসকদের রমরমা নিয়ে শোরগোল কম হয়নি। এখনও রাজ্যের বিভিন্ন কোণায় হাতুড়ে ও নকল ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ। সেই বেআইনি কারবার চিরতরে রুখতে এবার একদম SIR-এর ধাঁচে রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসকদের সমস্ত নথি নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্টার্ড থাকা প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসককে এই কঠোর প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শংসাপত্র— সবকিছুই এবার কড়াভাবে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি রোগী দেখানোর আগে সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসকের বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন, তার জন্য চালু করা হচ্ছে ‘নো ইওর ডক্টর’ (KYD) ভেরিফিকেশন পদ্ধতি।
কী জানাচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর?
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ১৯৯৬ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কাউন্সিলে রেজিস্টার্ড সমস্ত চিকিৎসকের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য একটাই— চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চিরতরে বন্ধ করা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা। কোনো ব্যক্তি বৈধ ডিগ্রি ছাড়া বা জাল নথিতে যাতে আর রোগী দেখতে না পারেন, সরকার সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে।
কীভাবে হবে এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া?
চিকিৎসকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
সরাসরি উপস্থিতি: চাইলে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় সমস্ত মূল নথিপত্র নিয়ে সরাসরি নির্দিষ্ট অফিসে হাজির হতে পারবেন।
অনলাইন মাধ্যম: বয়স্ক চিকিৎসক, অসুস্থ ব্যক্তি কিংবা দূরদূরান্তে কর্মরত ডাক্তারদের কথা ভেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বিশেষ সুযোগ রাখা হচ্ছে।
পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুচারুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি স্বনামধন্য বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য।
বাদ পড়বে মৃত ও ভুয়ো নামগুলি
স্বাস্থ্য দফতরের ঘোষণা অনুযায়ী, নথি যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়ার সময় যেসব চিকিৎসক ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, যারা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কিংবা বর্তমানে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন, তাঁদের নাম কাউন্সিলের তালিকা থেকে চিরতরে বা স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে। এর ফলে কাউন্সিলের ডেটাবেসে প্রকৃত ও সক্রিয় চিকিৎসকদের আসল পরিচয় আরও বেশি স্পষ্ট ও নির্ভুল হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নিয়ে কী জানাল সরকার?
বর্তমানে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে ‘ভ্যালিডিটি’ বা মেয়াদের শেষ তারিখ নিয়ে চিকিৎসকমহলে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এপ্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন কোনো সরকারি নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকদের বর্তমান রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটই সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, নথি যাচাইয়ের এই প্রক্রিয়ার জন্য ডাক্তারবাবুদের অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।