ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়! পুরোনো চাকরি কি সুরক্ষিত থাকবে? জানুন আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ

ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী) সংরক্ষণ এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১১ মার্চের রায়ের ভিত্তিতে অতীতে সম্পন্ন হওয়া কোনো নিয়োগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া বা কর্মচারীদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রটি) নতুন করে খতিয়ে দেখা বা তাতে পরিবর্তন আনা যাবে না। তবে ২০২৫ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (সিএসই) মাধ্যমে নির্বাচিত ওবিসি প্রার্থীদের চাকরি বণ্টনের ক্ষেত্রে সংশোধিত ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতিটি কার্যকর হবে।

বিচারপতি পি.এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের দাখিল করা একাধিক আবেদন নিষ্পত্তি করার সময় এই রায় দেয়। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন ১১ মার্চের সিদ্ধান্তটি পূর্ববর্তী তারিখ থেকে কার্যকর না করা হয় এবং পদগুলির সমতা নির্ধারণের জন্য দুই বছর সময় দেওয়া হয়। তবে আদালত সরকারের সেই সময়সীমা দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। এর আগে ১১ মার্চ আদালত রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ছয় মাস সময় দিয়েছিল। শুক্রবার সেই নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় আদালত আরও আট সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।

বেতন যোগ করে সংরক্ষণ বন্ধ নয় শুনানি চলাকালীন দেশের শীর্ষ আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, সরকারি খাতের উদ্যোগ (পিএসইউ), ব্যাংক এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অভিভাবকদের বেতনের আয় যান্ত্রিকভাবে যুক্ত করে ওবিসি প্রার্থীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। অর্থাৎ, কেবল বেতনের অঙ্ক হিসাব করে যোগ্য প্রার্থীদের ওবিসি সংরক্ষণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

আদালত জানিয়েছে, ১১ মার্চের এই রায়ের সুফল কেবল মূল মামলার পক্ষ এবং এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হস্তক্ষেপকারীরাই পাবেন। অতীতে সম্পন্ন হয়ে যাওয়া নিয়োগ বা জ্যেষ্ঠতার তালিকা এই রায়ের ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা যাবে না। তবে আইনসম্মত উপায়ে বিচারাধীন অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করতে পারে।

সময়সীমা বৃদ্ধি এবং পরবর্তী নির্দেশ বেঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিএসই-২০২৫ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল ৬ মার্চ, ২০২৬-এ প্রকাশিত হলেও সফল প্রার্থীদের চাকরি বণ্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেই কারণে এই পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন নীতি অনুসরণ করা হবে। অন্যদিকে, ১১ মার্চের পর থেকে সমস্ত নিয়োগ ও সংরক্ষণের বরাদ্দ ১৯৯৩ সালের মূল অফিস মেমোরেন্ডামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট ও সংবিধানের নির্দেশিকা মেনে নতুন ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি তৈরির পূর্ণ স্বাধীনতা সরকারের রয়েছে।