“আমি তো বেঁচে আছি!” আধার পোর্টালে জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ বানানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ!

সশরীরে আধার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন ব্যক্তি নিজে। কিন্তু সরকারি কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটিই তথ্য— ‘ডিজ়িজড’ (Deceased) অর্থাৎ মৃত! আর সেই অজুহাতেই বাতিল ও নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বায়োমেট্রিক তথ্য। নজিরবিহীন এই আধার কার্ড বিভ্রাটের মুখে পড়ে চরম বিপাকে মেদিনীপুর শহরের দেওয়ান নগরের বাসিন্দা শেখ পিয়ার আলি। হন্যে হয়ে এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে ঘুরেও মেলেনি সমাধান। শেষমেশ বিচার পেতে জেলাশাসকের দরবারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

গ্যাস বুকিং করতে গিয়েই ফাঁস মারাত্মক সত্য

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় সপ্তাহখানেক আগে। শেখ পিয়ার আলি নিজের রান্নার গ্যাস বুক করতে গেলে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়েন। বুকিং না হওয়ায় মেদিনীপুর শহরের গান্ধীঘাট এলাকার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর কার্যালয়ে সরাসরি হাজির হন তিনি। সেখানে গ্রাহকের চোখের আইরিস স্ক্যান এবং ছবির ডিজিটাল বায়োমেট্রিক যাচাই করার চেষ্টা করা হলে পোর্টাল বারবার তা প্রত্যাখ্যান করে। বাধ্য হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরেন তিনি।

পরের দিন আধার কার্ডের তথ্য ঠিক করাতে তিনি পৌঁছে যান মেদিনীপুর হেড পোস্ট অফিসের আধার বায়োমেট্রিক কেন্দ্রে। সেখানে পর পর ৪-৫ বার তাঁর নতুন ছবি ও বায়োমেট্রিক আপলোড করা সত্ত্বেও তথ্য মিলছিল না।

ক্ষোভ উগরে দিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাঁতারু মেয়ে

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন পিয়ার আলির কন্যা, আন্তর্জাতিক মানচিত্র কাঁপানো সাঁতারু আফরিন জাবি। যিনি ইংলিশ চ্যানেল, পক প্রণালী এবং ক্যাটালিনা চ্যানেল জয় করে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

বাবার এই করুণ পরিস্থিতির কথা ফেসবুকে শেয়ার করে আফরিন লেখেন, “একজন জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো হচ্ছে, এটা কীভাবে সম্ভব? মেদিনীপুরের প্রধান পোস্ট অফিসের কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারলাম বাবার নম্বরটি ‘ডিজ়িজড’ (Deceased) স্ট্যাটাস দেখিয়ে ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করে দেওয়া হয়েছে। যিনি নিজেই সশরীরে বেঁচে থেকে আধিকারিকদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁকেই নাকি নথিতে মৃত বলা হচ্ছে! আধার কেন্দ্রে গিয়ে কোনো সমাধান পেলাম না। এখন কোথায় গেলে এই হয়রানি থামবে?”

দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়া শেখ পিয়ার আলি বলেন, “আমি তো বুঝতে পারছি না কোথায় গেলে কী করতে হবে। জীবন্ত একটা মানুষকে কাগজে-কলমে শেষ করে দেওয়া হলো! এবার জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে সব জানাব।”

কী বলছেন প্রশাসনিক কর্তারা?

এই অদ্ভুত ও জটিল সমস্যা প্রসঙ্গে মেদিনীপুর সদর মহকুমা শাসক মারগুব ইলমি জানান, এটি একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা হলেও কোনো বিশেষ যান্ত্রিক বা তথ্যগত ত্রুটির (Mismatch) কারণে ঘটে থাকতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমার জানাশোনা এমন দু’টি ঘটনা আগে ঘটেছিল, যেখানে পোর্টালে ডেটা ডিলিট বা নিষ্ক্রিয় দেখাচ্ছিল। পরবর্তীতে সঠিক পন্থায় আবেদন করে তা সংশোধন করিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। খড়্গপুর শহরের বিশেষ আধার সংশোধন কেন্দ্রে এই জাতীয় জটিল সমস্যার সমাধান করা হয়।”

এখন প্রশ্ন একটাই— সরকারি ব্যবস্থার এই গাফিলতিতে একজন সাধারণ নাগরিককে আর কতদিন এমন মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হতে হবে? জেলাশাসকের হস্তক্ষেপের পরেই কি শেষমেশ নিজের ‘জীবিত’ থাকার সরকারি প্রমাণ ফিরে পাবেন শেখ পিয়ার আলি? উত্তর চাইছে মেদিনীপুর।