লিফ্টের দরজা কি সত্যি বন্ধ ছিল? ‘তেহলকা’ সম্পাদক তরুণ তেজপালের সাজায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের!

মহিলা সহকর্মীকে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের মামলায় বম্বে হাইকোর্টের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও মিলল না তাৎক্ষণিক স্বস্তি। ‘তেহলকা’র প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তরুণ তেজপালের সাজায় স্থগিতাদেশ দিতে শুক্রবার পরিষ্কার অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত। ফলে আইনি জটিলতা ও শাস্তির খাঁড়া আরও ঘনীভূত হলো তাঁর মাথার ওপর।
সিবালের পাল্টা যুক্তি: লিফ্টের দরজা ও বয়ান বিভ্রাট
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে তরুণ তেজপালের পক্ষে সওয়াল করেন দেশের অন্যতম প্রভিণ আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি নির্যাতিতার বয়ানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। সিবাল দাবি করেন, যে ঘটনার সময়সীমা ২ মিনিট ৯ সেকেন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিফ্টের দরজা অন্তত দু’বার খুলেছিল। হোটেলের কর্মীদের সাক্ষ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, হোটেলের ওই লিফ্ট প্রতিটি তলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলে এবং কোনও বোতাম চেপে তা জোর করে বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, ঘটনার তদন্তকারী অফিসার গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যেত যে লিফ্টের দরজা সত্যিই বন্ধ ছিল না কি খোলা ছিল। শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর মূল এফআইআর (FIR) দায়েরের আগে নির্যাতিতা যেসব বয়ান দিয়েছিলেন, তার কোনোটিতেই প্রাথমিক পর্যায়ে ধর্ষণের সরাসরি উল্লেখ ছিল না বলেও আদালতে দাবি করেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।
গোয়া সরকারের পাল্টা আক্রমণ ও ‘ক্ষমা প্রার্থনার’ ইমেল
অন্যদিকে, গোয়া সরকারও বম্বে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তরুণ তেজপালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এদিন গোয়া সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে তুলে ধরেন ঘটনার পরপরই নির্যাতিতাকে পাঠানো তরুণ তেজপালের একাধিক ইমেল ও টেক্সট মেসেজ, যেখানে তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।
এর জবাবে কপিল সিবাল জানান, ওই ইমেলের খসড়া তৈরি করেছিলেন তেহলকার তৎকালীন অন্য এক সম্পাদক সোমা চৌধুরী। তাছাড়া সেই ইমেলের কোথাও তেজপাল সরাসরি ধর্ষণের মতো মারাত্মক কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি দেননি।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড: এক নজরে ঘটনাপঞ্জি
নভেম্বর, ২০১৩: গোয়ার একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলাকালীন নিজের এক মহিলা সহকর্মীকে লিফটের ভেতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গোয়া পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
জুলাই, ২০১৪: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জামিন পান তেজপাল।
২০১৭: নিম্ন আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গঠিত হয়।
মে, ২০২১: গোয়ার নিম্ন আদালত তেজপালকে সমস্ত অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেয়।
হাইকোর্টের রায়: নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চে যায় গোয়া সরকার। হাইকোর্ট তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
সেই সাজাকে বাতিল ও স্থগিত করতেই শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তেজপাল। তবে প্রথম ধাপে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সাজায় কোনো স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় আপাতত স্বস্তির কোনো পথ খোলা রইল না তেহলকার এই প্রাক্তন কাণ্ডারীর সামনে।