ধূমপায়ীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ! সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে কর বাড়ছে

জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠকে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের হার একলাফে অনেকখানি বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে তামাকজাত দ্রব্যে ২৮ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ শতাংশ জিএসটি (GST) বসবে। যদিও সিগারেটের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত করের চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, বাকি সব তামাকজাত পণ্যে তা কার্যকর হবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে।

সিগারেট ও বিড়ির দাম কতটা বাড়ছে?

এই নতুন কর কাঠামোর ফলে তামাকজাত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

  • বর্তমানে ১৯ টাকার একটি সিগারেটের দাম নতুন হারে বেড়ে হবে প্রায় ২১.৭০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতিটি সিগারেটে খরচ বাড়বে প্রায় ২ টাকা
  • ১০ টাকার একটি বিড়ি বা ছোট সিগারেটের দাম হবে প্রায় ১০.৯৪ টাকা
  • সিগার, চেরুট, পান মশলা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত তামাকজাত দ্রব্যের দামও একই হারে বাড়বে।

এই দাম বাড়ার কারণে একজন ধূমপায়ীর মাসিক খরচ অন্তত ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক খরচ ৭,২০০ টাকা বেড়ে যাবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই বাড়তি করের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং একই সাথে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। তামাকজাত দ্রব্যকে ‘সিন গুডস’ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে ধরা হয়, তাই এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, দাম বাড়লে তামাকের ব্যবহার কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এই নতুন জিএসটি কাঠামোতে শুধুমাত্র তামাকজাত পণ্যই নয়, আরও কিছু বিলাসবহুল ও ক্ষতিকর পণ্যে ৪০ শতাংশ কর বসানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: চিনিযুক্ত কার্বনেটেড পানীয়, ক্যাফেইনযুক্ত এনার্জি ড্রিঙ্ক, বিলাসবহুল গাড়ি, ৩৫০ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল, এবং অনলাইন গেমিং। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তামাকজাত দ্রব্য সেবন এখন শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং পকেটের জন্যও অনেক বেশি ব্যয়বহুল।