ধুনুচি নাচে ‘সেফটি ব্রেক’! আগুনের বদলে জল, আহিরীটোলায় মাতিয়ে দিল ‘ধুনুচি জুনিয়র’, কেন এই অভিনব উদ্যোগ?

দুর্গাপূজা বাঙালির কাছে কেবল উৎসব নয়, এক চলমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে উত্তর কলকাতার আহিরীটোলা সর্বজনীন-এর পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ঘটল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। চিরাচরিত ধুনুচি নাচের মঞ্চে প্রথমবার আগুনের ধোঁয়া নয়, এল জল আর বাচ্চাদের উচ্ছ্বাস। Nestlé NANGROW-এর বিশেষ উদ্যোগে এই প্রথমবার ‘ধুনুচি জুনিয়র’ নামে অভিনব এবং নিরাপদ এক ধুনুচি নাচের আয়োজন করা হলো।
এতকাল ধরে ধুনুচি নাচ মূলত বড়দের আনন্দেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু Nestlé NANGROW তাদের মূল ভাবনা— ‘No to Oh with Nestlé NANGROW’-এর মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে নতুন রঙে রাঙিয়ে তুলল।
‘ধুনুচি জুনিয়র’: কেন এই অভিনব উদ্যোগ?
শিশুরা ধোঁয়া ওঠা ধুনুচি হাতে ঢাকের তালে নাচতে চাইলেও, আগুনের ঝুঁকির কারণে বাবা-মায়েদের কাছ থেকে আসে জোরালো ‘না’ (No)। Nestlé NANGROW এই ‘না’-কে শিশুদের জন্য নিরাপদ করে ‘ওহ!’ (Oh)-তে বদলে দিয়েছে।
নিরাপদ ধুনুচি: এটি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এক মজাদার ধুনুচি, যা আগুনের বদলে জলের সাহায্যে চলে।
৭ সাইনস অব গ্রোথ সেলিব্রেশন: পুষ্টির মাধ্যমে বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার সাতটি লক্ষণ (7 signs of growth)-কে সেলিব্রেট করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এই প্রথমবার, বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের হাত ধরে ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচে অংশ নিল, যা উৎসবে যোগ করেছে এক নতুন ছন্দ।
আহিরীটোলায় জমজমাট পঞ্চমী
২৭শে সেপ্টেম্বর, পঞ্চমীর বিকেল ৫টায় আহিরীটোলা সর্বজনীনের প্যান্ডেলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন সেই ‘first-ever’ মুহূর্তের জন্য। মঞ্চে যখন ৫ জন শিশু তাদের মা-বাবার সঙ্গে একসঙ্গে ধুনুচি নাচে তাল মেলাতে শুরু করল, তখন দর্শকাসন থেকে ফেটে পড়ল হাততালি।
ছোট্ট পা-গুলো ঢাকের তালে তালে তাল মেলালো, আর তাদের হাতে থাকা ছোট্ট, নিরাপদ ধুনুচি উৎসবের চিরাচরিত ছন্দে এক নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাসকে যুক্ত করল। মা-বাবার সঙ্গে প্রতিটি স্টেপ যেন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অসাধারণ মেলবন্ধন তৈরি করল।
Nestlé NANGROW-এর এই উদ্যোগ প্রমাণ করল যে, দুর্গাপূজা শুধু সাজসজ্জা আর আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এখানে পুরনো ঐতিহ্য মিশে যায় নতুন সম্ভাবনার সঙ্গে। আর এই নতুন সম্ভাবনা হলো বয়সের দেয়াল ভেঙে শিশুদেরও ঐতিহ্যের আনন্দ উপভোগের সুযোগ করে দেওয়া।
আপনার কি মনে হয় এই ‘ধুনুচি জুনিয়র’-এর মতো উদ্যোগ অন্যান্য পুজো মণ্ডপেও হওয়া উচিত?