ধান ছেড়ে শসা চাষ করে মালামাল পুরুলিয়ার চাষি! বছরে ৪-৫ লক্ষ আয়, এক সিদ্ধান্তে বদলে গেল জীবন

ধান চাষের চিরাচরিত পদ্ধতি এবং তার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিকল্প ফসল হিসেবে শসা চাষ করে আর্থিক স্বাবলম্বিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন পুরুলিয়া জেলার কাশীপুরের বাসিন্দা মহেশ্বর রাজোয়াড়। বর্তমানে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে সফলভাবে শসা চাষ করছেন তিনি, যা এখন তাঁর সারা বছরের প্রধান আয়ের উৎস।

এক দশক আগে একঘেয়েমি কাটানোর সিদ্ধান্ত:

প্রায় এক দশক আগে, ২০১৫ সালে ধান চাষের একঘেয়েমি ও লাভের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠে বিকল্প ফসল হিসেবে শসা চাষ শুরু করেন মহেশ্বর রাজোয়াড়। পরিশ্রম, অধ্যাবসায় ও দূরদর্শিতার ফলস্বরূপ শসা চাষই তাঁকে এনে দিয়েছে আর্থিক স্বাবলম্বিতা এবং সমাজে এক নতুন পরিচিতি।

বর্তমানে কাশীপুরের জুরগুড়িডি এলাকায় তিনি সফলভাবে এই চাষ করছেন। মহেশ্বরবাবুর উৎপাদিত শসা এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়, কলকাতা, বেনারস, ধানবাদ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, ফলে শসা চাষ তাঁর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

বার্ষিক ৪-৫ লক্ষ টাকা আয়:

মহেশ্বর রাজোয়াড় জানান, একসময় শসার পাশাপাশি তিনি তরমুজ চাষও করতেন। তবে বাজারের চাহিদা ও লাভের হার বিচার করে বর্তমানে কেবল শসা চাষেই তিনি মনোনিবেশ করেছেন। তাঁর কথায়, “প্রতি বছর শসা চাষ করে প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আয় হয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টির কারণে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”

মহেশ্বর এই সাফল্যের পরও আশাবাদী। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে শসা চাষ ভবিষ্যতে আরও বহু কৃষকের জীবনে নতুন আলোর দিশা দেখাবে।