“ধর্ম ও রাষ্ট্র আলাদা নয়!” মুম্বইয়ের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

র্ম এবং রাষ্ট্রকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। শুক্রবার মুম্বইয়ে অল ইন্ডিয়া বিহার সেবা গোষ্ঠীর চতুর্দশ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের ক্ষেত্রে ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাঁর মতে, ধর্মের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে।

রাষ্ট্র এবং ধর্মের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী দেশ ও ধর্ম একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মকে ধারণ করা, আর ধর্ম রাষ্ট্রকে রক্ষা ও সুরক্ষিত করে। এই দুই শক্তিই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর সতর্কবার্তা, রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়লে ধর্ম বিপন্ন হবে, আবার ধর্মাচরণের চর্চা হ্রাস পেলে রাষ্ট্রও পতনের মুখে পড়বে। তাই উভয়ের সঠিক সমন্বয় বজায় রেখেই এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আরএসএস প্রধান বলেন, উন্নয়ন বনাম পরিবেশ সংরক্ষণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা বনাম পারিবারিক জীবন কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস বনাম সংঘাতের মতো বহুমুখী দ্বন্দ্বে জর্জরিত আজ গোটা বিশ্ব। মানবসমাজ চরমপন্থার শিকার এবং কোনো ভারসাম্য নেই। এই বৈশ্বিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আজ সারা পৃথিবী ভারতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভাগবত বলেন, ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে—ভারত কখনও অন্য দেশ দখল বা জোর করে ধর্মান্তকরণের উদ্দেশ্যে নিজের জ্ঞান ছড়ায়নি, বরং সমগ্র বিশ্বের কল্যাণের জন্যই তা ভাগ করে নিয়েছে। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা থেকে শুরু করে জৈন আগম, ত্রিপিটক এবং গুরু গ্রন্থ সাহিবের মতো বিশাল আধ্যাত্মিক জ্ঞানভাণ্ডারই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty