শীত আসার আগেই মালদার জঙ্গলে পরিযায়ী পাখিদের মেলা! সবুজ চাদরে ঘেরা এই স্বর্গের সৌন্দর্য দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে

বর্ষা বিদায় নিতে না নিতেই চারপাশজে সেজে উঠেছে মনমুগ্ধকর সবুজের চাদরে। আর সেই ঘন সবুজের মাঝেই হাজার হাজার পাখির দলবদ্ধ কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে মালদার গাজোলের বিখ্যাত আদিনা ডিয়ার পার্ক। শীতের মরশুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ভিনরাজ্য ও দক্ষিণ ভারত থেকে পরিযায়ী পাখিদের ঝাঁকে ঝাঁকে আগমন ঘটেছে এই অভয়ারণ্যে। গাছের ডালে ডালে এখন শুধুই পাখিদের কিচিরমিচির আর ডানার সুর। হরিণের সাবলীল চলাফেরার পাশাপাশি পাখিদের এই অবিশ্বাস্য মেলা দেখতে ইতিমধ্যেই দূরদূরান্ত থেকে পর্যটক ও পাখিপ্রেমীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শীতের ঠিক আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী পাখিরা আদিনা ডিয়ার পার্কে এসে জড়ো হয়। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের কারণে পাখির সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে বন বিভাগ। বর্তমানে এই জঙ্গলের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এশিয়ান ওপেনবিল স্টর্ক বা শামুকখোল। দলবদ্ধভাবে বা কলোনি করে বসবাস করা এই পাখিদের নান্দনিক উপস্থিতি পুরো জঙ্গলকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আদিনা ডিয়ার পার্কের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট শুভ্র পাল জানিয়েছেন যে, প্রতিবছরই আদিনায় হাজার হাজার পাখির সমাগম ঘটে। শামুকখোল ছাড়াও হোয়াইট ককাটু, গোল্ডেন ফেজেন্ট, সিলভার ফেজেন্ট, ককাটিল ও বদ্রিকা-সহ বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির পাখি পর্যটকদের মনে আলাদা আগ্রহ তৈরি করছে।
ঘুরতে আসা পর্যটক সুব্রত বিশ্বাস জানান, এখানে একদিকে যেমন হরিণের অবাধ বিচরণ দেখা যায়, তেমনই অন্যদিকে গাছের দিকে তাকালেই অগণিত পাখির নজরকাড়া উপস্থিতি মন কেড়ে নেয়। এখানকার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও শান্ত। পার্কের ভেতরে পর্যটকদের সুবিধার জন্য বসার আসন এবং সুপেয় জলের সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২৫ টাকা এবং শিশুদের জন্য মাত্র ১০ টাকার টিকিটের বিনিময়ে এই পার্কে প্রবেশ করা যায়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের প্রতিটি দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকে। শুধু ডিয়ার পার্কই নয়, এর পাশেই রয়েছে একাধিক চমৎকার পিকনিক স্পট এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য, যার মধ্যে প্রাচীন একলাখি সমাধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
যাতায়াতের দিক থেকেও এই জায়গাটি অত্যন্ত সুবিধাজনক। মালদা টাউন স্টেশন থেকে আদিনা বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। জাতীয় সড়ক ধরে সোজা আদিনা স্ট্যান্ডে পৌঁছে সেখান থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই মনোমুগ্ধকর ডিয়ার পার্কে। রায়গঞ্জের কুলিক ফরেস্টের পাশাপাশি মালদার আদিনা ডিয়ার পার্কও যে পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম প্রধান ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে নিজেদের পরিচিতি ধরে রেখেছে, তা বলাই বাহুল্য। শীত যত এগিয়ে আসবে, পার্ক চত্বরে পাখির সংখ্যা এবং পর্যটকদের আনাগোনা ততোই বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস।