১৭০ জনের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি! ভয়াবহ ককপিট কাণ্ডে ধৃত কো-পাইলটের সিরিয়া-যোগ ও গোপন অতীত নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে

ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামিকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। সোশাল মিডিয়ায় আল-কায়েদা জঙ্গিদের ছবি শেয়ার করা, উগ্রবাদী ওয়েবসাইটে নিয়মিত যাতায়াত এবং তাঁর চরমপন্থী ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে আগে থেকেই তীব্র গুঞ্জন ছিল। প্রশ্ন উঠছে, এত গুরুতর অভিযোগ ও ওমান সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ইজরায়েলগামী একটি সংবেদনশীল ফ্লাইটের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন? চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই ফ্লাইটে বিমানটিকে নিচে ফেলে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
৩০ সেপ্টেম্বরের এই হাড়হিম করা ঘটনার পর থেকেই কো-পাইলট আল-হাম্মামি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কঠোর নিরাপত্তার হেফাজতে রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে সুনির্দিষ্ট বিবরণ না দিয়ে জানিয়েছিলেন যে অভিযুক্ত ব্যক্তি “ইসলামি উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত” ছিলেন। বর্তমানে তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। জানা গিয়েছে, আল-হাম্মামির বাবা ওমানি এবং মা সিরিয়ান। সিবিএস নিউজ ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই কাটিয়েছেন। ওমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও বিভিন্ন সূত্রে তাঁর দ্বৈত নাগরিকত্বের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই ফাঁকফোকর দিয়েই তিনি ইজরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইজরায়েলের সঙ্গে ওমানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ (Abraham Accords)-এর শর্ত অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ইজরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেই দেশের পাইলটদের তেল আভিবে বিমান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় না। ফ্লাইদুবাইয়ে যোগদানের মাত্র আট মাস আগে আল-হাম্মামি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওমান এয়ার এবং মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’-এ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ওমান এয়ারে কর্মরত থাকাকালীনই তাঁর উগ্রপন্থী কার্যকলাপ ও সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে যাতায়াতের বিষয়টি নজরে আসায় তাঁকে বিমান চালনা থেকে সরিয়ে ডেস্কে বসানো হয়েছিল। তবে অফিসের কাজ না পসন্দ হওয়ায় তিনি ২০২৪ সালের দিকে ওমান এয়ারের চাকরি ছেড়ে দেন এবং পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। নিরাপত্তার চরম ত্রুটি ও এমন এক বিতর্কিত অতীত কীভাবে এড়িয়ে গেল বিমানসংস্থা, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।