ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল সংসদ! বিরোধী বিক্ষোভ ও তেলাপোকা জনতা পার্টির আমরণ হুঙ্কারে বিপাকে মোদী সরকার

শুক্রবার ভারতীয় সংসদ চত্বর এবং রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক ময়দান একসঙ্গে উত্তাল হয়ে ওঠে। বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ এবং রাজপথে নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদের জেরে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সংসদের উভয় কক্ষেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল হট্টগোল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বিরোধী দলগুলির সাংসদরা। একই সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টির’ (সিজেপি) পক্ষ থেকেও শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জোড়া বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাগরিকা ঘোষসহ বিরোধী দলগুলির একাধিক শীর্ষ নেতা একত্রিত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে “আমরা ন্যায়বিচার চাই” স্লোগানে চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন যে বিরোধীদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তাঁরা অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চান। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবও সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন যে দেশের প্রতিটি সংকটের মূল কারণ একটিই এবং তা দেশের মানুষ ভালোভাবেই জানে। বিরোধীদের এই ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন নির্ধারিত সময়ের আগেই মুলতবি করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, যন্তর মন্তরে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, যতদিন না পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন, ততদিন তাঁদের এই প্রতিবাদ ও আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি সোনম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের দীর্ঘ আমরণ অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর জীবন দেশের জন্য অমূল্য বলে মন্তব্য করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক প্রসঙ্গে সিজেপি প্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প প্রস্তাব তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
শুক্রবারের সংসদীয় অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা কারগিল বিজয় দিবসের অমর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী সাংসদরা নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্পিকার ওম বিরলা নিয়ম মেনে প্রশ্নোত্তর পর্ব সচল রাখার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভ থামেনি। ফলস্বরূপ, উত্তাল পরিস্থিতির জেরে প্রথমে লোকসভা এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার অধিবেশনও দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। বিরোধী শিবিরের এই অনমনীয় মনোভাব এবং রাজপথের রাজনৈতিক চাপ আগামী দিনে সরকারকে কতটা বেকায়দায় ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।