“দেশের ভবিষ্যৎ রাস্তায় নেমেছে!” লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা করলেন রাহুল গান্ধী!

লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সময় কেন্দ্রিয় নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেন যে, দেশের ছাত্র সমাজের সাম্প্রতিক এই আন্দোলন ও বিক্ষোভ কোনোমতেই অন্ধ ক্রোধ কিংবা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ছিল না। বরং ছাত্ররা তাদের সুপ্ত অনুভূতি ও না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ করেছে এবং তাদের এই ক্ষোভ সম্পূর্ণভাবে ন্যায্য। রাহুল গান্ধীর মতে, গোটা দেশ যখন যুবকদের প্রকৃত অনুভূতি উপলব্ধি করতে পেরেছে, তখন ক্ষমতাসীন সরকার তা বুঝতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ রাস্তায় নেমে এসেছে। আমি ভাবছিলাম আমার এই ঐতিহাসিক বক্তৃতা কোথা থেকে শুরু করব। যন্তর মন্তরের প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা তাদের আবেগ প্রকাশ করছিল। আমি বিশ্বাস করি, শাসক দল বিজেপির নেতাদের সন্তানরাও এর সঙ্গে একমত হবেন এবং তাঁদের পরিবারের উচিত নিজেদের বাড়িতে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা।”

লোকসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা আরও পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, এই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ যেভাবে রাস্তায় নিজেদের দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে, তার নেপথ্যে কোনো হিংসা বা বিষাক্ত ঘৃণা নেই। এটি মূলত দেশের সর্বস্তরের যুবসমাজের বঞ্চিত কণ্ঠস্বর। বিজেপিতে তাঁর যে বন্ধুরা রয়েছেন, তাঁদের সহ দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই উচিত যুবসমাজের এই জোরালো কণ্ঠস্বরকে সসম্মানে স্বীকৃতি দেওয়া। রাহুল গান্ধীর মতে, বিজেপির বন্ধুরা যদি নিজেদের সন্তানদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে তাদের ভাইবোনেরা ঠিক কী কারণে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল, তবে তাতে বিন্দুমাত্র ভুল হবে না। প্রত্যেক দায়িত্বশীল ভারতীয় নাগরিকেরই এমন আত্মমূল্যায়ন করা উচিত। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিও পোস্টে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যায় যে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রাস্তায় যা করেছে, তা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আনন্দিত ও আশ্বস্ত হয়েছেন।

বক্তব্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাহুল গান্ধী বলেন যে, একজন প্রকৃত ছাত্রের মূল লক্ষ্য ও ব্রত সর্বদা সত্যের অনুসন্ধানে এগিয়ে চলা। একজন ছাত্রের কাছে সত্য সবসময়েই মধুর ও প্রার্থিত। তিনি জানান যে তিনিও ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বহু শিশুর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন। আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানের জটিল শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তার অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর সব প্রশ্ন তুলছে। শিশুরা প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা একটানা কঠোর পড়াশোনা করে। তারা বছরের পর বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করে। যাদের মধ্যে শেখার আসল ইচ্ছা ও খিদে আছে, কেবল তারাই প্রকৃত ছাত্র। যেখানে সত্য বিরাজ করে, সেখানেই ছাত্রসমাজ উপস্থিত থাকে। বর্তমানের শিক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে। পৃথিবী যেভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তা আজকের ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত গভীরভাবে বুঝতে পারে। এমনকি শাসক দল বিজেপির নেতাদের সন্তানরাও এই গণআন্দোলনের সঙ্গে ভেতরে ভেতরে একমত পোষণ করেন। মহাত্মা গান্ধীর মতোই ছাত্রছাত্রীরাও অবিরাম সত্যের সন্ধানে ব্রতী রয়েছে। কিন্তু দেশের ছাত্রসমাজ মনে করে যে বর্তমান সরকার অত্যন্ত অহংকারী ও বধির।

এদিকে ভাষণ দেওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তেই রাহুল গান্ধী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ‘অন্ধ ভক্ত’ এবং ‘বোকা’র মতো তীক্ষ্ণ শব্দচয়ন ব্যবহার করেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, অন্ধ ভক্তরা প্রায়শই বোকাদের নিজেদের দেবতা বলে মনে করতে শুরু করে। এরপর তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, ঠিক কোন শ্রেণীর অন্ধ ভক্তদের এই দেশের সর্বোচ্চ সংসদীয় স্তরে রাখা উচিত। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য উচ্চারিত হতেই সমগ্র লোকসভা চত্বরে তীব্র হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়ে যায়। শাসক দলের মন্ত্রী ও সাংসদরা রাহুলের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চরম আপত্তি তোলেন। এই হাঙ্গামার মাঝে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা মধ্যস্থতা করে রাহুল গান্ধীকে থামিয়ে দেন এবং তাঁকে নির্দিষ্ট বিলের পরিধির মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেন। এর ঠিক পরেই কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তীব্র আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেন যে, বিরোধী দলীয় নেতা অত্যন্ত অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করছেন। এর প্রত্যুত্তরে রাহুল গান্ধী দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবমাননাকর বা অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেননি, বরং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।