পশ্চিম এশিয়ার আগুনে পুড়ছে ভারতীয়দের স্বপ্ন! হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানাল নয়াদিল্লি

পশ্চিম এশিয়ায় ফের চরম আকার ধারণ করা সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে অত্যন্ত গভীর ও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উন্মুক্ত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ অবিলম্বে এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা প্রশমনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের উপর সাম্প্রতিককালে ঘটে চলা বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরীহ বেসামরিক জাহাজ এবং দেশের প্রধান পরিকাঠামোগুলির উপর এই ধরনের সশস্ত্র হামলা অবিলম্বে চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে বিশেষভাবে জিএফএস গ্যালাক্সি (GFS Galaxy), এমটি আল বাহিয়াহ (MT Al Bahiyah) এবং এমটি মোম্বাসা (MT Mombasa)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজের উপর চালানো হামলার কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, এই সমস্ত কাপুরুষোচিত হামলায় একাধিক ভারতীয় নাবিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একজন ভারতীয় নাগরিকের প্রাণহানির খবর মিলেছে, একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে উন্নত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত পর্বতনেনি হরিশ অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন কঠোরভাবে মেনে হরমুজ প্রণালী সহ সমস্ত আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ, মুক্ত ও সম্পূর্ণ নিরাপদ নৌ-চলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান যে, পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। এছাড়া এই অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে ভারতের প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, উপসাগরীয় দেশগুলির শক্তিশালী অর্থনীতি থেকে ভারত বছরে ৫২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় লাভ করে থাকে। প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে ওই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কর্মরত থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ভারতের কাছে সবসময়েই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, হরমুজ প্রণালীর চলমান উত্তেজনার জেরে গাজার মর্মান্তিক মানবিক সংকট কোনোভাবেই ঢাকা পড়ে যাওয়া উচিত নয়। সাধারণ ও নিরস্ত্র মানুষের লাগাতার প্রাণহানি এবং বেসামরিক পরিকাঠামোগুলির যত্রতত্র ধ্বংসলীলা অবিলম্বে রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে।
পাশাপাশি, ভারত আবারও সুনির্দিষ্টভাবে ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্বে ঐতিহাসিক দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি নিজেদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের আগুনে পুড়তে থাকা লেবাননে কর্মরত রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী (UNIFIL)-র সকল সদস্যের পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে ভারত।