দুর্নীতির বলি যোগ্যরা, ফের পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চাকরি হারানো শিক্ষকরা

দীর্ঘ টানাপোড়েন, মামলা-মোকদ্দমা আর লাগাতার আন্দোলনের পর অবশেষে সেই দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল হওয়া প্যানেলের কারণে আজ ফের পরীক্ষায় বসতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থী। রবিবার অনুষ্ঠিত নবম-দশম শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসছেন এমন অনেকেই, যারা ইতিমধ্যেই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

চাকরি হারানো যোগ্যদের মধ্যে একজন হলেন শিক্ষক হুমায়ুন ফিরোজ। MBS নেওরা হাইস্কুলের এই শিক্ষক রবিবার ফের পরীক্ষা দিচ্ছেন। হতাশা আর ক্ষোভের মিশেলে তিনি বলেন, “এটা রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র। এখানে সরকারের দুর্নীতি ও বিচার ব্যবস্থার অবহেলা হয়েছে। আমরা কেউ চাইনি আবার পরীক্ষায় বসি, কিন্তু আমরা বাধ্য হয়ে যাচ্ছি।”

তাঁর কথায় উঠে আসে প্রান্তিক মানুষের পরিশ্রমের চিত্র। তিনি বলেন, “এসএসসি এমন একটা চাকরি, যেটা কিন্তু অনেক প্রান্তিক মানুষ পরিশ্রম করে পেত। যাঁরা যোগ্যভাবে এই চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছে আজকের দিনটা সত্যিই কষ্টের।”

নয় বছর আগে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাওয়া এই শিক্ষকরা এখন মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। হুমায়ুন ফিরোজ জানান, “৯ বছর আগে পরীক্ষা হয়ে গেছে। আগের যা স্ট্যামিনা ছিল, এখন তো তা নেই। মানসিক যন্ত্রণা তারপরও যাচ্ছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্কুল চলছে, পরীক্ষার খাতা দেখছি, তাই চেয়েছিলাম যাতে পরীক্ষা পিছিয়ে যাক। রাত জেগে পড়াশোনা করছি। আগেও পরিশ্রম করেছি, এখনও পরিশ্রম করেছি।”

নবম-দশম শ্রেণির সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই পরীক্ষায় মোট ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন চাকরিপ্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। রাজ্য জুড়ে ৬৩৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার নিয়মকানুন সম্পর্কে কমিশন আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে। যোগ্যদের এই লড়াই কি শেষ পর্যন্ত তাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবে, সেদিকেই এখন সবার নজর।