দুর্গা পুজোর পর এবার জগদ্ধাত্রী! চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী পুজোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করার গবেষণা শুরু

দুর্গাপুজো বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো-কে নিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা। এই পুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এই ফরাসি শহরের নাগরিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটেনের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই গবেষণা।
গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সরকারি স্পার্ক (SPARC) প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণাটির লক্ষ্য হলো, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে একটি জীবন্ত এবং অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে চিহ্নিত করা। অধ্যাপক নীলাঞ্জনা গুপ্ত এবং সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রকল্পের কাজ চলছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে স্থানীয় শিল্পীদের মৌখিক ইতিহাস, তাদের সাক্ষাৎকার এবং শিল্পকর্ম তৈরির বিভিন্ন পর্যায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে আলোকসজ্জা শিল্পী, শোলা কারিগর, প্রতিমা শিল্পী এবং প্যান্ডেল ডিজাইনারদের মতো বিভিন্ন পেশার মানুষ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। গবেষকদের মতে, যান্ত্রিকতা, সরকারি নীতির অভাব এবং প্রজন্ম বদলের কারণে এই ঐতিহ্য আজ বিপন্ন।
কারিগরদের জীবন ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ
অধ্যাপক নীলাঞ্জনা গুপ্ত বলেন, “ঐতিহ্য রক্ষা মানে শুধু কিছু ভবনের সংরক্ষণ নয়, মানুষকেও রক্ষা করা।” তিনি মনে করেন, যে শিল্পীরা এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের রুটিরুজি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও ঐতিহ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলছে। যেমন, উপযুক্ত জলাভূমির অভাবে শোলার চাষ কমে যাওয়ায় ডাকের সাজের জন্য এখন বাংলাদেশকে নির্ভর করতে হচ্ছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, ঐতিহ্য সংরক্ষণে দেশে সঠিক নীতির অভাব রয়েছে এবং এই বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে একটি হ্যান্ডবুক এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের কোর্স তৈরি করা হবে, যা নতুন প্রজন্মকে ঐতিহ্য নিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনায় উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে, একটি ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা হবে, যেখানে স্থানীয় কারিগরদের স্মৃতি ও শিল্পকর্ম সংরক্ষিত থাকবে। গবেষকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে একদিন আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের মানচিত্রে জায়গা করে দেবে।