দুই স্বামীকে নিয়ে সুখে সংসার, হঠাৎ জীবনে নেমে এল অন্ধকার! হিমাচলের সেই ‘দ্রৌপদী’র পরিবারে কী ঘটল?

আধুনিক সমাজ যখন একবিবাহে অভ্যস্ত, তখন ভারতের কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজও টিকে আছে প্রাচীন কিছু প্রথা। তেমনই একটি প্রথা হলো ‘হট্টি পলিয়ান্দ্রি’ বা দ্রৌপদী প্রথা, যেখানে একজন নারী একাধিক ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের দুই ভাই এই প্রথা মেনে এক তরুণীকে বিয়ে করায় দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে বিয়ের কয়েক মাস পর দুই ভাইয়ের এক দুঃখের পোস্টে নেটিজেনদের মধ্যে নানা জল্পনা ছড়ায়।

হিমাচল প্রদেশের সিরমুর জেলার বাসিন্দা প্রদীপ নেগি ও কপিল নেগি একই সম্প্রদায়ের মেয়ে সুনিতা চৌহানকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের দুই মাস পরই কপিল তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন: ‘জীবন আর আগের মতো নেই!’ সঙ্গে একটি দুঃখের ইমোজি। এই পোস্ট দেখে অনেকেই অনুমান করেন, হয়তো এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়েছে।

নেটিজেনদের সব জল্পনাকে ভুল প্রমাণ করে দুই ভাই জানান, তাদের সংসারে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং তাদের এই পোস্টের কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তাদের বাবা, যিনি সম্প্রতি মারা গেছেন। বাবার মৃত্যুতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। প্রদীপ ও কপিল দুজনেই জানিয়েছেন, “আমাদের বাবা শুধু একজন অভিভাবক ছিলেন না, তিনি আমাদের শক্তি ছিলেন। তাকে ছাড়া বাড়িটা বড্ড ফাঁকা।”

হট্টি সম্প্রদায়সহ উত্তরাখণ্ডের কিছু এলাকায় এই প্রথা প্রচলিত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং পরিবারে শান্তি বজায় রাখা। প্রদীপ নেগি জানান, তারা তাদের প্রাচীন রীতিকে সম্মান করে এই বিয়ে করেছেন এবং এই নিয়ে তাদের কোনো লজ্জা নেই।

অন্যদিকে, কপিল নেগি বলেছেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমাদের সীমিত জমি ও সম্পত্তি আছে। এক স্ত্রী থাকলে পরিবারের মধ্যে বিভাজন আসে না, ভালোবাসা অটুট থাকে এবং শান্তি বজায় থাকে।” পাত্রী সুনিতা জানিয়েছেন, এই প্রথা সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন এবং নিজের ইচ্ছেতেই এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন।