গুপ্ত রহস্য ফাঁস! বালি পাচারকাণ্ডে ইডি-র হাতে ‘ই-চালান’, কীভাবে কোটি কোটি টাকা লোপাট?

বালি পাচার দুর্নীতিতে বড়সড় সাফল্য পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সম্প্রতি তল্লাশি চালিয়ে ইডি-র হাতে এসেছে শত শত ভুয়ো ই-চালান, যা থেকে সামনে এসেছে এক অভিনব জালিয়াতির কৌশল। অভিযোগ, কিউআর কোড জাল করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ইডি এখন এই ই-চালানের সূত্র ধরে বালি পাচারের মূল হোতাকে খুঁজছে।
টিভি৯ বাংলার হাতে আসা একটি এক্সক্লুসিভ ই-চালানের হার্ড কপিতে দেখা যাচ্ছে, মাইনিং লিজ হোল্ডারের জায়গায় নাম রয়েছে ঝাড়গ্রামের ব্যবসায়ী সৌরভকুমার রায়ের। কিন্তু ওই চালানে থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে মোবাইলে একটি লিঙ্ক আসে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে যে ওয়েবসাইটটি খোলে, সেখানে মাইনিং লিজ হোল্ডারের নাম দেখাচ্ছে ‘ভিনীত ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড’। অথচ, চালান নম্বরটি কিন্তু একই। তদন্তকারীরা বলছেন, এই পদ্ধতিতেই কিউআর কোড জাল করে বালি পাচার করা হতো।
গত শুক্রবার মেদিনীপুরের বালি ব্যবসায়ী সৌরভ কুমার রায়ের প্রাসাদোপম বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। দীর্ঘ তল্লাশির পর ইডি তাঁর বাড়ি থেকে ৬৪ লক্ষ টাকা সহ প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করে। এরপরই নদীর ধার থেকে বালি নিয়ে আসা সৌরভের একটি ট্রাককে আটক করেন সরকারি আধিকারিকরা। সেই ট্রাক থেকেই ই-চালানটি উদ্ধার হয়, যা স্ক্যান করার পর এই জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে।
ইডি মনে করছে, এই ই-চালানগুলো কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। আরও অনেক এমন চালান রয়েছে যা দিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এখন ইডি এই চক্রের মূল পান্ডা বা ‘মাথা’কে খুঁজে বের করতে চাইছে।