দীপাবলির রেশ কাটেনি! আলিপুর-আনন্দ বিহারে ‘অতিশয় বিপজ্জনক’ দূষণ, কেন এখনও কাটছে না ঘন ধোঁয়াশা?

দিওয়ালির পর থেকেই ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে থাকা রাজধানী দিল্লির বায়ু মানের (AQI) বুধবার সামান্য উন্নতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সামগ্রিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ২৩০-এ দাঁড়িয়েছে, যা পূর্বের ‘খুবই খারাপ’ স্তর থেকে নেমে ‘খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতের শুরুতেও বাতাসে দূষণের মাত্রা এখনও উদ্বেগজনক থাকায় দিল্লিবাসী চিন্তিত।

উদ্বেগের কারণ: কিছু এলাকায় বিপজ্জনক মাত্রা

যদিও সামগ্রিক বায়ু মানের সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবুও শহরের বেশ কিছু এলাকায় দূষণের মাত্রা এখনও মারাত্মক। বুধবার সকালে ITO এবং অক্ষরধাম এলাকার AQI ২৮১-এ পৌঁছেছে। এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যার ২৯১ থেকে সামান্য কম হলেও স্বাস্থ্যকর মাত্রার চেয়ে অনেক উপরে। এই সপ্তাহে টানা তিন দিন “অতি খারাপ” বায়ুদূষণের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে দিল্লি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আলিপুর, ওয়াজিরপুর, বাওয়ানা এবং আনন্দ বিহারের মতো কিছু মনিটরিং স্টেশনে মঙ্গলবার AQI ৪০২ থেকে ৪২১-এর মধ্যে রেকর্ড করা হয়, যা “অতিশয় বিপজ্জনক” (Severe) শ্রেণির মধ্যে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই মাত্রার দূষণ শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

দূষণ বৃদ্ধির কারণ:

পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তারা দীপাবলির পর হাওয়ার গতি কমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়াকেই রাজধানীর বায়ুদূষণ বৃদ্ধির জন্য প্রধানত দায়ী করছেন। ঘন ধোঁয়াশা (Smog) এবং স্থির বাতাসের কারণে দূষণকণা মাটির কাছাকাছি আটকে থাকছে, ফলে রাজধানীর আকাশ থেকে দূষণের চাদর এখনও পুরোপুরি কাটছে না।

নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ:

দূষণ নিয়ন্ত্রণে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM) বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। CAQM জানিয়েছে, এই বছর পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় খড় পোড়ানোর ঘটনা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাবে ২,৫১৮টি এবং হরিয়ানায় ১৪৫টি খড় পোড়ানোর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ২,২০০-র বেশি ক্ষেত পরিদর্শন করে মোট ৫৫.৭৫ লাখ টাকা পরিবেশ ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে।