দিল্লি বিস্ফোরণ মামলা! মূল অভিযুক্ত ডাক্তার উমর মহম্মদের ছবি প্রকাশ্যে, যোগ ‘হোয়াইট কলার’ মডিউলের

সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের প্রথম ছবি প্রকাশ্যে এল। বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ডাঃ উমর মহম্মদ। এই হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যোগ:
পুলওয়ামায় ১৯৮৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া উমর ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, উমর জঙ্গি সন্দেহে ধৃত আরও দুই চিকিৎসক আদিল আহমদ রাঠার এবং মুজাম্মিল শাকিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এই তিন চিকিৎসকই সম্প্রতি ধরা পড়া ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাস মডিউলের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, রাঠার ও শাকিলের গ্রেফতারের পরই উমর ফরিদাবাদ থেকে পালিয়ে যান। গোয়েন্দারা প্রায় ২,৯০০ কেজি সন্দেহজনক বিস্ফোরক উদ্ধার করার খবর পেতেই উমর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তড়িঘড়ি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।
বিস্ফোরকের ব্যবহার ও রুট:
সূত্রের খবর, উমর ও তাঁর সহযোগীরা উচ্চতীব্রতার বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) ব্যবহার করে হামলা চালান। জনবহুল এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে গাড়ির ভেতরে ডিটোনেটর বসানো হয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রেজিস্ট্রেশন নম্বর HR 26CE7674-সহ গাড়িটি বদরপুর সীমান্ত হয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করে এবং আউটার রিং রোড দিয়ে ওল্ড দিল্লিতে আসে। বিকেল ৩টা ১৯ মিনিটে গাড়িটি রেড ফোর্ট সংলগ্ন পার্কিংয়ে ঢোকে এবং সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে সেটি বেরিয়ে যায়। এই তিন ঘণ্টা গাড়ির ভেতরেই উমর ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
গাড়ির মালিকানা রহস্য:
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকানা গত কয়েক মাসে একাধিকবার হাতবদল হয়েছে। মার্চ ২০২৫-এ গাড়িটি সলমান থেকে দেবেন্দরের হাতে যায়, সেখান থেকে ২৯ অক্টোবর আমিরের কাছে। অবশেষে গাড়িটি উমর মহম্মদের কাছে পৌঁছয়। বর্তমানে গাড়ির হস্তান্তরের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আমির ও তারিক নামের দু’জনকে জেরা করছে দিল্লি পুলিশ।