দিল্লি বিস্ফোরণের পর NIA-এর বিরাট অভিযান! আল কায়দার যোগসূত্র খুঁজতে কোচবিহারে বাংলাদেশির বাড়িতে হানা, পলাতক আরিফ হোসেন কে?

দিল্লি বিস্ফোরণের (Delhi Blast) পর দেশজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি হয়েছে। ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-কে। এই পরিস্থিতিতে NIA-এর একটি দল পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের দিনহাটায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালাল।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা সীমান্ত লাগোয়া দিনহাটার নান্দিনা গ্রামে আরিফ হোসেন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের খোঁজে অভিযান চালান। তার শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ৫ বছর আগে আরিফ ঢাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে এবং নান্দিনা গ্রামে বিয়ে করে বসবাস শুরু করে। এখানে সে ঠিকাদারির কাজ করত।

বুধবার ভোররাতে রাজ্য পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা দিনহাটায় পৌঁছান। যদিও আরিফকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে এনআইএ। আরিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকা, জঙ্গিদের মদত দেওয়া-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই জানান, “২০২৩ সালে আরিফের নামে NIA-এর কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বুধবার তাঁর বাড়ি পৌঁছন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সদস্যরা।” এনআইএ সূত্র বলছে, আল কায়দার ফান্ডিং সংক্রান্ত একটি মামলায় গুজরাত পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরিফের নাম উঠে আসে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে এনআইএ সদস্যরা এলাকা ছাড়েন। আরিফের শাশুড়ি সাহেরা বিবি জানান, তাঁর জামাই নয়ারহাট বাজারে কাপড়ের দোকান চালায় এবং ঠিকাদারের কাজও করে। তিনি নিশ্চিত করেন, “আরিফ বাংলাদেশি। প্রায় ৫ বছর হয়ে গেল বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ভারতে এসে বিয়ে করে বসবাস শুরু করেছে।”

জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও মগজ ধোলাইয়ের চক্র দিল্লির বিস্ফোরণের পর দেশের একাধিক রাজ্যে এনআইএ এবং গুজরাতের আমেদাবাদ এটিএস (অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড) তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দালাল মারফত এই দেশে এসে তারা ভুয়ো ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে ভারতীয় নাগরিক সেজে দেশের যে কোনো প্রান্তে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে আল কায়দা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে।

এই জঙ্গিদের কার্যকলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন এলাকার যুবকদের মগজ ধোলাই করা এবং নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করা। এই কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে পুরো কাজটাই আড়ালে থেকে চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, চেনা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার না-করে নতুন নতুন সংগঠনের নামে ভারতবিরোধী এই কার্যকলাপ চালাচ্ছে একাধিক জঙ্গি। এই সংগঠনগুলির মধ্যে অনেকেই নিজেদের সামাজিক বা ধর্মীয় সংগঠন বলে দাবি করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছে।