আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ছাড়া আমাদের একদিনও চলা দায়। আর এই গ্যাজেটগুলি অনায়াসে কিনতে অনেকেই বেছে নেন ইএমআই (EMI) বা সহজ কিস্তির সুবিধা। কিন্তু কোনো কারণে যদি সেই কিস্তি দিতে সামান্য দেরি হয়, তবে কি কোম্পানি আপনার সাধের ফোন বা ল্যাপটপটি পুরোপুরি লক বা অকেজো করে দিতে পারে? সম্প্রতি এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। তবে এই বিষয়ে ঘাবড়ে না গিয়ে, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর আসল নিয়মটি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ভয়ের কারণ কী? কেন ছড়াচ্ছে আতঙ্ক?
আজকাল অনেক ফাইনান্স কোম্পানি বা ব্যাঙ্ক ল্যাপটপ ও মোবাইল ঋণে দেওয়ার সময় ডিভাইসে একটি বিশেষ সফটওয়্যার বা ‘লকিং প্রযুক্তি’ ইনস্টল করে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, সময়মতো ইএমআই জমা না পড়লে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে সেই ডিভাইসটি লক করে দেওয়া হয়। এর ফলে গ্রাহকরা ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারেন না। এই বিষয়টি নিয়েই গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
গ্রাহকদের সুরক্ষায় কী বলছে RBI-এর নিয়ম?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সবসময়ই গ্রাহকদের স্বার্থ ও গোপনীয়তার অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। আরবিআই-এর ‘ফেয়ার প্র্যাকটিসেস কোড’ (Fair Practices Code) এবং গ্রাহক সুরক্ষা নির্দেশিকা অনুযায়ী:
জোরজুলুম নিষিদ্ধ: ঋণ পুনরুদ্ধারের (Recovery) জন্য কোনো ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।
মানবাধিকার ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন নয়: গ্রাহকের ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া বা দূর থেকে তা লক করে দেওয়া এক প্রকার গ্রাহকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, বকেয়া আদায়ের জন্য গ্রাহককে হেনস্থা করা আইনত অপরাধ।
ডিজিটাল লক নিয়ে কড়া নজরদারি: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ফাইনান্স কোম্পানি যদি ঋণ দেওয়ার শর্তাবলীতে (Terms & Conditions) এই লকিং সিস্টেমের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে থাকে, তবে তারা হুট করে গ্রাহকের ফোন বা ল্যাপটপ বন্ধ করতে পারে না।
জরুরি নোট: ঋণ নেওয়ার সময় চুক্তির কাগজ বা ‘লোন এগ্রিমেন্ট’ ভালো করে পড়ে নেওয়া উচিত। অনেক সময় কিছু বেসরকারি সংস্থা লুকিয়ে এই শর্ত চাপিয়ে দেয়, যা নিয়ে আরবিআই-এর কাছে অভিযোগ জানানোর অধিকার গ্রাহকদের রয়েছে।
কিস্তি বাকি পড়লে আইনি নিয়ম কী?
যদি কোনো গ্রাহক ইএমআই দিতে না পারেন, তবে আর্থিক সংস্থাগুলি আইনসম্মত উপায়ে পদক্ষেপ নিতে পারে: ১. তারা গ্রাহককে আইনি নোটিশ পাঠাতে পারে। ২. বকেয়া টাকার জন্য লেট ফি বা জরিমানা ধার্য করতে পারে। ৩. সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে সিবিল স্কোরে (CIBIL Score)। কিস্তি খেলাপি হলে ক্রেডিট স্কোর কমে যায়, যার ফলে ভবিষ্যতে লোন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত গ্যাজেট অকেজো করে দেওয়া কোনো সঠিক সমাধান নয় এবং আরবিআই এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
গ্রাহকদের জন্য আমাদের পরামর্শ
যদি কোনো ফাইনান্স কোম্পানি আপনাকে আগাম না জানিয়ে বা নিয়মের বাইরে গিয়ে আপনার ফোন বা ল্যাপটপ লক করে দেওয়ার হুমকি দেয়, তবে ভয় পাবেন না। আপনি সরাসরি সেই সংস্থার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা আরবিআই ওম্বুডসম্যান (RBI Ombudsman)-এর কাছে হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
ডিজিটাল দুনিয়ায় সুরক্ষিত থাকতে সতর্ক থাকুন এবং যেকোনো ঋণের শর্তাবলী সবসময় খুঁটিয়ে পড়ুন।
দেশ-বিদেশের এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং সচেতনতামূলক খবরের লেটেস্ট আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এ।





