দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ‘স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া’ (SBI)-র গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি খবর। আপনি যদি চলতি মে মাসে ব্যাঙ্কের কোনও গুরুত্বপূর্ণ কাজ মেটানোর কথা ভেবে থাকেন, তবে এখনই সাবধান হোন। মে মাসের শেষ সপ্তাহে দেশজুড়ে টানা ৬ দিন বন্ধ থাকতে পারে স্টেট ব্যাঙ্কের সমস্ত শাখার কাজকর্ম। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশেই এই ছুটির প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে ব্রাঞ্চের দরজা বন্ধ থাকলেও স্বস্তির খবর হলো— ডিজিটাল ও অনলাইন পরিষেবা সম্পূর্ণ সচল থাকবে।
কেন টানা ৬ দিন বন্ধ থাকতে পারে SBI?
আসলে মে মাসের শেষ সপ্তাহে উইকএন্ড (সাপ্তাহিক ছুটি), বকরি ইদ এবং ব্যাঙ্ক কর্মীদের একটি প্রস্তাবিত দু’দিনের ধর্মঘট— এই তিনের জেরেই দেশজুড়ে টানা ৬ দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিচে ছুটির সম্পূর্ণ হিসাব দেওয়া হলো:
২৩ মে (চতুর্থ শনিবার): নিয়ম অনুযায়ী মাসের চতুর্থ শনিবার হওয়ায় দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে।
২৪ মে (রবিবার): সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সারা দেশের সমস্ত SBI শাখা বন্ধ থাকবে।
২৫ ও ২৬ মে (সোমবার ও মঙ্গলবার): এই দু’দিন দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
২৭ ও ২৮ মে (বুধবার ও বৃহস্পতিবার): বকরি ইদ উপলক্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ছুটি থাকবে। (উল্লেখ্য, জম্মু ও কাশ্মীরে বকরি ইদের কারণে এই দু’দিনই ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। দেশের অন্যান্য অংশে উৎসবের দিন অনুযায়ী ছুটি কার্যকর হবে)।
ধর্মঘটের ডাক কেন?
দেশজুড়ে SBI কর্মীদের বৃহত্তম প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া স্টাফ ফেডারেশন’ (AISBISF) আগামী ২৫ এবং ২৬ মে দেশব্যাপী দু’দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
আন্দোলনের মূল কারণসমূহ: ব্যাঙ্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিরোধিতা, ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) ফান্ড ম্যানেজারদের নির্বাচন, কর্মীদের পদোন্নতি বা কর্মজীবনে উন্নতির পরিকল্পনার পুনর্বিবেচনা, HRMS-এর ত্রুটি এবং কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফেডারেশন। এই ধর্মঘটে সিংহভাগ কর্মী অংশ নিলে শাখাগুলির স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হতে পারে।
চালু থাকবে কোন কোন পরিষেবা?
শাখাগুলি বন্ধ থাকলেও সাধারণ গ্রাহকদের প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই ছুটির দিনগুলিতেও গ্রাহকদের জন্য বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যমগুলি সম্পূর্ণ খোলা থাকবে।
অনলাইন ব্যাঙ্কিং ও নেট ব্যাঙ্কিং আগের মতোই সচল থাকবে।
UPI পেমেন্ট (Google Pay, PhonePe, Paytm ইত্যাদি) স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে।
মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে।
জরুরি টাকা তোলার জন্য দেশজুড়ে ATM পরিষেবা চালু থাকবে।





