দিল্লির বেআইনি নির্মাণে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট! আইআইটি-কে দিয়ে সমীক্ষার নির্দেশ, তলব এমসিডি কর্তাদের

রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং ঘনঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD)-এর নিষ্ক্রিয়তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার আইআইটি (IIT)-কে দিয়ে সমীক্ষা করানোর নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। আদালতের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, নিয়ম না মানলে পুর-কর্তৃপক্ষদের ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে হবে।

আইআইটি-র সমীক্ষা ও কড়া নজরদারি বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছে, মালব্য নগর, লাজপত নগর ও সাকেত এলাকায় বেআইনি নির্মাণকাজ খতিয়ে দেখার জন্য আইআইটি-র বিশেষজ্ঞ ও এমসিডি কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি এলাকাগুলোর অনুমোদনহীন নির্মাণ সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।

নির্দেশ অমান্যে ক্ষোভ গত ২০ মে সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি নির্মাণ সিল করা বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের তরফে শুধুমাত্র নোটিশ পাঠানো ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসডি সঞ্জয়ের উপস্থিতিতে বিচারপতিরা জানান, প্রশাসনিক শিথিলতার কারণেই অবাধে নিয়ম ভেঙে নির্মাণকাজ চলেছে। আগামী ৪ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

অগ্নিসুরক্ষায় চরম গাফিলতি বিচারপতিরা এদিন লখনউ ও দিল্লির সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ওপর আলাদা করে আলোকপাত করেন।

  • হৌজ রানি অগ্নিকাণ্ড: গত ৩ জুন দিল্লির মালব্য নগরে একটি বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের মৃত্যু হয়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।

  • লখনউ অগ্নিকাণ্ড: ২২ জুন লখনউয়ের আলিগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১৫ জন পড়ুয়া।

আদালত জানায়, গুরুগ্রামের ৯৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ম মানে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে নিযুক্ত আইনজীবী অজিত সিনহার রিপোর্টকেও গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করেছে আদালত।

সতর্কবার্তা প্রশাসনকে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জনস্বার্থে আইনের শাসন বজায় রাখতে কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুর-সংস্থা এবং কর্তাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ‘আদালত অবমাননা’-র পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বেআইনি নির্মাণ ঠেকাতে এবং শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আগামী দিনে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।