পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় এবং ঐতিহাসিক পালাবদল সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদ এখন বিজেপির দখলে। কিন্তু জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন কোটি টাকার প্রশ্ন একটাই— কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য তিথিতেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে পারে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই স্পষ্ট করেছিলেন যে, বাংলার কোনো ভূমিপুত্রই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হবেন। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে চারজন হেভিওয়েট নেতার নাম নিয়ে দিল্লির অলিন্দে এবং রাজ্য বিজেপির অন্দরে প্রবল চর্চা চলছে। তালিকায় প্রথম নামেই রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের পর খোদ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি এখন বিজেপির ‘পোস্টার বয়’ এবং ‘জায়েন্ট কিলার’। তাঁর লড়াই করার ক্ষমতা এবং জেলা স্তরের ওপর মজবুত দখল তাঁকে দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রাখছে।
তবে লড়াই সহজ নয়। দৌড়ে কড়া টক্কর দিচ্ছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের পুরনো ও নতুন কর্মীদের এক সূত্রে গাঁথার অদ্ভুত জাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাঁর মার্জিত এবং শান্ত স্বভাব কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত পছন্দের। অন্যদিকে, আরএসএস-এর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করছে ‘উৎপল মহারাজ’ তথা উৎপল ব্রহ্মচারীর নাম। কালিয়াগঞ্জ থেকে তাঁর ঐতিহাসিক জয় এবং সংগঠন অন্ত প্রাণ ভাবমূর্তি তাঁকে তুরুপের তাস করে তুলতে পারে। পিছিয়ে নেই স্বপন দাশগুপ্তও। তাঁর জাতীয় স্তরের অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধিজীবী ইমেজ বাঙালির মনে বিজেপির প্রতি গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত কার কপালে রাজতিলক উঠবে, তা ঠিক করতে দিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের ম্যারাথন বৈঠক চলছে। ৯ মে কি সত্যিই এক নতুন বাংলার সূচনা হবে? নজর এখন সেদিকেই।





