দিল্লিতে খোদ পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা ফুড ডেলিভারি বয়! সামান্য বচসা থেকেই কি এই নৃশংসতা?

রাতের অন্ধকারে নিস্তব্ধতা চিরে গর্জে উঠল সরকারি পিস্তল। আর সেই গুলিতেই প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ ফুড ডেলিভারি কর্মী। অভিযোগের তির খোদ দিল্লি পুলিশের এক হেড কনস্টেবলের দিকে। দিল্লির জাফরপুর কালান এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠেছে গোটা রাজধানী।

জন্মদিনের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদ

মৃত তরুণের নাম পাণ্ডব কুমার। গত রবিবার রাতে তিনি ও তাঁর বন্ধু কৃষ্ণ একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে রাস্তার ওপর তাঁদের সাথে বচসা বাধে নীরজ বালহারা নামে এক ব্যক্তির। অভিযোগ, নীরজ দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হেড কনস্টেবল। সে সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

এক গুলিতেই জোড়া রক্তাক্ত দেহ

বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে নিজের সার্ভিস পিস্তল বের করেন নীরজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, খুব কাছ থেকে পাণ্ডবের বুক লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। সেই গুলি পাণ্ডবের শরীর ফুঁড়ে বের হয়ে পিছনে বসে থাকা তাঁর বন্ধু কৃষ্ণের পেটে গিয়ে লাগে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন পাণ্ডব। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বন্ধু কৃষ্ণ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হরিয়ানা থেকে গ্রেফতার ঘাতক ‘সিংহাম’

ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছিলেন ঘাতক পুলিশ কর্মী নীরজ। তাঁর ফোন সুইচড অফ থাকায় তল্লাশিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। অবশেষে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে হরিয়ানার রোহতকের কাছ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। নীরজের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরকারি পিস্তলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিহারে শোকের ছায়া, পুলিশের অস্বস্তি

নিহত পাণ্ডব আদতে বিহারের মুজফফরপুরের বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিহারের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তাঁদের জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যও করেছিলেন নীরজ। যদিও পুলিশ এই দাবি খতিয়ে দেখছে। আপাতত ওই হেড কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে।


Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy