পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে দানা বাঁধছে রহস্য। একদিকে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী রিয়াধ ও তেহরানে শান্তির দূত সেজে দৌড়ঝাঁপ করছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক মঞ্চে মার্কিন হামলার নিন্দা করছেন। কিন্তু একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সাম্প্রতিক সামরিক চুক্তি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, পর্দার আড়ালের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, ইরান বিরোধী অভিযানে আমেরিকাকে গোপনে সবরকম কৌশলগত সাহায্য দিচ্ছে পাকিস্তান।
সবচেয়ে বিস্ফোরক দাবিটি হলো, মার্কিন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন MQ-9B-কে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে, আরব সাগরে মার্কিন রণতরীর গতিবিধিকে সুরক্ষা দিতে পাকিস্তানি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাহারায় থাকছে। এমনকী পাকিস্তানি নৌবাহিনী নাকি ইরানের ছোট ছোট নৌকার অবস্থান মার্কিন বাহিনীকে জানিয়ে দিচ্ছে, যাতে সেগুলিকে নিশানা করা সহজ হয়। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই দাবিগুলিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিলেও ইতিহাস বলছে অন্য কথা। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে সিআইএ-র সাথে তাদের গোপন আঁতাতের কথা অস্বীকার করে এসেছিল।
এই সন্দেহের পালে হাওয়া দিচ্ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হওয়া ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ ৬৮৬ মিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানে ‘Link-16’ এবং ‘Mode 5 IFF’-এর মতো ন্যাটো প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো এখন অনায়াসেই মার্কিন বাহিনীর সাথে একই আকাশসীমায় সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম। ২০২৬-এর যুদ্ধের ঠিক আগে এই আধুনিকীকরণ নিছক কাকতালীয় হতে পারে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসলামাবাদের এই ‘ডাবল গেম’-এর পেছনে রয়েছে বড় আর্থিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ। ব্রিটেন বা তুরস্কের মতো দেশগুলো যখন আমেরিকাকে ঘাঁটি দিতে অস্বীকার করেছে, তখন পাকিস্তানের গুরুত্ব ওয়াশিংটনের কাছে বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর বিনিময়ে মিলছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ এবং আমেরিকার ‘অপরিহার্য সঙ্গী’র তকমা। তবে এই খেলার ঝুঁকিও মারাত্মক। প্রতিবেশী ইরানের সাথে পাকিস্তানের ৯০০ কিমি সীমান্ত রয়েছে। ইরান যদি বুঝতে পারে যে পাকিস্তান পেছন থেকে ছুরি মারছে, তবে জানুয়ারি ২০২৪-এর বেলুচিস্তান হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। আপাতত ইসলামাবাদ শান্তির মুখোশ পরে থাকলেও, সেই মুখোশ খসে পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা।





