“দিনে ১০০০ কোটির লোকসান”-দেশজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি তবে বৃদ্ধির পথে?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি এসে পড়তে পারে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত থমকে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) বাজারে আগুন লেগেছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের পেট্রোল পাম্পগুলোতেও। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী ১৫ মে-র আগেই দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে।

৭০ থেকে ১২৬: ব্যারেল প্রতি দামের উলম্ফন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ছিল ৭০ ডলার, যা বর্তমানে লাফিয়ে পৌঁছেছে ১২৬ ডলারে। অথচ গত প্রায় দু’বছর ধরে ভারতে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ আর কতদিন সামলাতে পারবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

তেল সংস্থাগুলোর রক্তক্ষরণ: দৈনিক লোকসানের পাহাড়

একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো সরকারি মালিকানাধীন সংস্থাগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই লোকসানের বোঝা সরকারি কোষাগার অথবা কোম্পানিগুলো বহন করলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা সম্ভব নয়। ‘বিজনেস টুডে’-র একটি রিপোর্ট বলছে, এই আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতেই চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র।

বিশ্বের তুলনায় ভারত কি স্বস্তিতে?

জ্বালানি সংকটে বিশ্বের অনেক দেশই এখন নাস্তানাবুদ। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর অবস্থা রীতিমতো ভয়াবহ:

  • বাংলাদেশ: শুরু হয়েছে জ্বালানি রেশনিং।

  • পাকিস্তান: সরকারি দফতরে কাজের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • শ্রীলঙ্কা: তেলের অভাবে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করতে হয়েছে।

এমনকি উন্নত দেশগুলোতেও তেলের দাম আকাশছোঁয়া। হংকংয়ে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম প্রায় ২৯৫ টাকা, সিঙ্গাপুরে ২৪০ টাকা এবং নেদারল্যান্ডসে ২২৫ টাকা। সেই তুলনায় ভারতে এখনও পর্যন্ত জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক থাকলেও, দাম বৃদ্ধির ভ্রুকুটি এবার জনমানসে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

সরকারের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ

যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে দেশে যথেষ্ট জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনো কারণ নেই, তবুও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দামের স্থিতাবস্থা বজায় রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্তের পকেটে এই টান কবে থেকে পড়বে, তা হয়তো আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।