উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙায় এক চাঞ্চল্যকর ও নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল এলাকা। শাসকদলের এক নেতা এবং সিভিক ভলান্টিয়ারকে ঘিরে গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের জেরে সৃষ্টি হয় চরম উত্তজনা। পরিস্থিতি এতটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায় যে, শেষপর্যন্ত গ্রামবাসীদের হাত থেকে বাঁচতে খাটের নিচে লুকিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন ওই নেতা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকাতে শাসকদলের নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং স্বৈরাচারের অভিযোগ তুলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন হঠাৎ করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গ্রামবাসীদের একটি বড় অংশ দলবদ্ধ হয়ে ওই তৃণমূল নেতার দপ্তরে চড়াও হন। ক্ষুব্ধ জনতার রোষ থেকে বাঁচতে ওই নেতা এবং তাঁর সঙ্গী সিভিক ভলান্টিয়ার তৎক্ষণাৎ একটি খাটের নিচে ঢুকে পড়েন। জনতার রোষের মুখে পড়ে তাঁদের এমন অসহায় অবস্থার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সামলানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী ওই তৃণমূল নেতা ও সিভিক ভলান্টিয়ারকে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদে থানা চত্বরে সরিয়ে নিয়ে যায়।
ঠিক কী কারণে গ্রামবাসীদের এই তীব্র বিক্ষোভ? প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এলাকায় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে বেনিয়ম এবং শাসকদলের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, ওই নেতা সিভিক ভলান্টিয়ারকে ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে যে, বিরোধীদের ইন্ধনেই পরিকল্পিতভাবে এই অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ওই এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন টালমাটাল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মাথাভাঙা থানার পুলিশ।





