“দিঘায় রথের রশি টানতে পারবেন সাধারণ মানুষ”-নতুন সাজে সেজেছে জগন্নাথ মন্দির

রথযাত্রার উন্মাদনায় ভাসছে গোটা দেশ। পিছিয়ে নেই বাংলাও। মাহেশ বা মায়াপুরের পাশাপাশি এবার পর্যটন শহর দিঘাতেও জগন্নাথ দেবের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে প্রস্তুতি। সমুদ্র সৈকতের এই শহরে জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা এবার দ্বিতীয় বছরে পা দিল, আর তাকে ঘিরেই পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ।
এবারের রথযাত্রা ঘিরে সবচেয়ে বড় পাওনা হলো—ভক্তদের স্বয়ং রশি টানার সুযোগ। গত বছর উদ্বোধনের সময় প্রোটোকলের কারণে ভক্তদের এই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। কিন্তু এবার তেমন কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় সাধারণ মানুষ সরাসরি রথের দড়িতে টান দিতে পারবেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমন দাস জানিয়েছেন, ভক্তদের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হতে চলেছে। এছাড়া রথযাত্রার উদ্বোধন করবেন জেলার বর্ষীয়ান সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী।
প্রভুর সাজসজ্জাতেও থাকছে বিশেষ চমক। পুরী থেকে আসা সুসজ্জিত ফুলের মুকুট পরেই বৃহস্পতিবার রথে আরোহণ করবেন জগন্নাথ দেব। উল্লেখ্য, গত বছর রথের চাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে। এবার রথযাত্রা হবে নির্বিঘ্ন।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি: দিঘায় পর্যটকদের ভিড় সামলাতে প্রশাসন আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেছে। নিরাপত্তার খাতিরে মন্দির থেকে ওল্ড দিঘা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে বিশেষ রেলিং বসানো হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রথযাত্রা উপলক্ষ্যে শহরের পরিকাঠামোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে:
অবৈধ দখলমুক্তি: ফুটপাতের অবৈধ দোকান সরিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা প্রশস্ত করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ: শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি এবং খাবারের গুণমান যাচাইয়ে চলছে নিয়মিত অভিযান।
আলোকসজ্জা: দিঘার রাতের সৌন্দর্য বাড়াতে রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক লাইট।
গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সব মিলিয়ে, সৈকত শহরে রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে জগন্নাথ দর্শন ও রথ টানার অভিজ্ঞতার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন অগণিত ভক্ত।