‘উৎসব থাকুক মানুষের হাতেই’, কোনো পুজো কমিটির দায়িত্ব নেবেন না শমীক ভট্টাচার্য

বাংলার উৎসবের মরসুমে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতার বিখ্যাত কলেজ স্কোয়্যারের দুর্গাপুজো তো বটেই, রাজ্যের কোনো পুজো কমিটিরই সভাপতি বা পরিচালন সমিতির দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করবেন না।

কেন এই কঠোর অবস্থান? শমীক ভট্টাচার্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোনো বিধায়ক বা মন্ত্রী ব্যক্তিগত ইচ্ছায় যদি তাঁদের এলাকার পুজোয় যুক্ত থাকেন, সেটি তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেভাবে একের পর এক পুজো কমিটির নেতৃত্বে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বসে পড়ছেন, তা তিনি সমর্থন করছেন না। শমীকের কথায়, “রাজনৈতিক নেতাদের এমন দায়িত্ব নেওয়ার প্রবণতা থেকে দূরে থাকা উচিত।”

পুজোর ‘সর্বজনীন’ চরিত্র রক্ষা: বিজেপি রাজ্য সভাপতির মতে, দুর্গাপুজো কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি ‘সর্বজনীন’। তিনি মনে করেন, পুজো কমিটিগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুজোয় রাজনীতির ছোঁয়া লাগলে তার মূল ভাবধারা নষ্ট হয়। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজে কোনো পুজো কমিটির নেতৃত্বে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে উৎসব’: বিবৃতির শেষে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “উৎসবের আনন্দ মানুষের হাতেই থাকুক, রাজনীতির দখলে নয়।” তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে বড়সড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিরুদ্ধে যখন প্রায় প্রতিটি পুজো কমিটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগ ওঠে, তখন শমীক ভট্টাচার্যের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে বেশ কৌশলী এবং স্বতন্ত্র। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই পদক্ষেপ কি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো বিতর্কের বা পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে!