পুর-বোর্ডে ‘গৃহযুদ্ধ’, কৃষ্ণনগরের হাল বেহাল! পরিষেবা না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন নাগরিকরা, এবার কী হবে?

শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শহর কৃষ্ণনগর। কিন্তু সেই শহরের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র কৃষ্ণনগর পুরসভা এখন খবরের শিরোনামে কেবল পরিষেবার জন্য নয়, বরং শাসকদলের তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব ও গোষ্ঠীকোন্দলের কারণে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শহরের নাগরিক পরিষেবাগুলোতে। ভেঙে পড়া পুর-বোর্ড এবং কাউন্সিলরদের নিজেদের মধ্যে দড়ি টানাটানির ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উন্নয়নের চাকা।
কেন এই অচলাবস্থা?
দীর্ঘদিন ধরেই কৃষ্ণনগর পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ক্ষমতা দখল আর নিজেদের অনুগামীদের সুযোগ দেওয়া নিয়ে কাউন্সিলরদের মধ্যে দুই বা তার বেশি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকছে মাসের পর মাস। সম্প্রতি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুর-বোর্ডের সাধারণ কাজকর্মও লাটে উঠেছে।
কী বলছেন কৃষ্ণনগরের নাগরিকরা?
শহরের হাল ফেরাতে নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফাটতে শুরু করেছে। তাঁদের প্রধান অভিযোগ ও দাবিগুলো হলো:
রাস্তাঘাটের কঙ্কালসার দশা: শহরের প্রধান রাস্তা থেকে গলিপথ— সব জায়গাতেই বড় বড় গর্ত। বর্ষার আগে রাস্তা মেরামত না হলে চলাফেরা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
নিকাশি জট: একটু বৃষ্টিতেই শহরের নিচু এলাকাগুলো জলের তলায় চলে যায়। নর্দমা সাফাইয়ের কাজ সময়মতো হচ্ছে না বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
জঞ্জাল অপসারণ: নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই না হওয়ায় জায়গায় জায়গায় আবর্জনার স্তূপ জমছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
পানীয় জলের সমস্যা: গ্রীষ্মের দাবদাহে অনেক ওয়ার্ডে পানীয় জলের সংকট দেখা দিলেও প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিরোধী শিবিরের দাবি, পুরসভা চালানোর চেয়ে শাসকদল এখন নিজেদের গদি বাঁচাতে ব্যস্ত। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কোনো কোন্দল নেই, কেবল কিছু পদ্ধতিগত সমস্যার কারণে কাজে দেরি হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সাফ কথা— “আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা পরিষেবা চাই।”
বিশেষ মন্তব্য: কৃষ্ণনগরের মানুষ এখন একটি সুশৃঙ্খল এবং দায়বদ্ধ পুর-বোর্ড চাইছেন, যেখানে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে শহরের উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রশাসক বসানো বা নতুন করে বোর্ড গঠন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি এখন শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে।